আসিয়ানের ডুরিয়ান মাতাচ্ছে চীনা ফলবাজার

ফয়সল আবদুল্লাহ: আসিয়ান দেশগুলোয় চলছে ডুরিয়ান ফলের মৌসুম। চীনে ফলটির চাহিদা যত বাড়ছে তত বাড়ছে আমদানি। সময়মতো ডুরিয়ানের সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়না-লাওস রেলওয়ে ও সীমান্ত বন্দরগুলোয় দ্রুত কাস্টমস ব্যবস্থা চালু হয়েছে। মোহান রেলওয়ে বন্দর ও ফ্রেন্ডশিপ পাস দিয়ে প্রতিদিন হাজার টন ডুরিয়ান ঢুকছে চীনে।

আসিয়ান দেশগুলো থেকে ডুরিয়ানের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দক্ষিণ চীনের কাস্টমস ও রেল কর্তৃপক্ষ নিয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এতে তাজা এই মৌসুমী ফল দ্রুত বাজারে পৌঁছাচ্ছে এবং দামও তুলনামূলকভাবে কমেছে।

চীন ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী সোনালি করিডর নামে পরিচিত চায়না-লাওস রেলওয়ে এখন ডুরিয়ান আমদানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই রেলপথের মাধ্যমে মোহান রেলওয়ে বন্দর বর্তমানে চীনে আমদানিকৃত ডুরিয়ানের সবচেয়ে বড় রেল প্রবেশপথে পরিণত হয়েছে।

আগে যেখানে কাস্টমস ছাড়পত্র পেতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাগত, এখন তা কমে দুই থেকে চার ঘণ্টায় নেমে এসেছে।

চায়না রেলওয়ে স্পেশাল কার্গো খুনমিং শাখার কর্মকর্তা লি চোংচি জানালেন, ডুরিয়ান মৌসুমে পরিবহন চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাই ল্যাংছাং–মেখং এক্সপ্রেস প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চারটি ট্রেন পরিচালনা করছে। বর্তমানে ডুরিয়ান আমদানি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষ মৌসুমি চাহিদা মেটাতে বাড়তি পণ্যবাহী ট্রেন চালু করেছে এবং বড় ধারণক্ষমতার কন্টেইনার ব্যবহার করছে। ফলে থাইল্যান্ড থেকে আসা ডুরিয়ান মাত্র ২৬ ঘণ্টায় খুনমিংয়ে পৌঁছে যাচ্ছে।

দক্ষিণ চীনের কুয়াংসি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের স্থলবন্দরগুলোও ডুরিয়ান আমদানির গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফ্রেন্ডশিপ পাস দিয়ে প্রতিদিন কোল্ড-স্টোরেজযুক্ত ট্রাকে করে থাইল্যান্ডের ‘মন থং’ এবং ভিয়েতনামের ‘কান ইয়াও’সহ বিভিন্ন জাতের ডুরিয়ান চীনে প্রবেশ করছে।

ইয়ুননান সাপ্লাই চেইন অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট চাং থাও জানান, ভালো ডুরিয়ান বাছাইয়ের জন্য পাঁচটি বিষয় দেখতে হয়—আকার, রং, গন্ধ, শব্দ এবং শক্তভাব। খোসায় টোকা দিলে যদি ফাঁপা শব্দ হয় এবং খোসা সামান্য নরম লাগে, তাহলে বোঝা যায় ফলটি পাকা। এ ছাড়া সোনালি হলুদ রং ও সুগন্ধ থাকলে সেটি ভালো মানের।

মে’র শুরু থেকে এই বন্দরে প্রতিদিন তিন হাজার দুই শত টনের বেশি ডুরিয়ান প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে, যা চীনে আমদানিকৃত মোট ডুরিয়ানের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ।

চীনের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাজা কৃষিপণ্যের জন্য বিশেষ ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু করেছে। এর ফলে চীন–ভিয়েতনাম সরাসরি রুটে পরিবহন সময় পাঁচ দিন থেকে কমে মাত্র দুই দিনে নেমে এসেছে।

সিএমজি

agriculturechina