চারণভূমিকে স্থিতিশীল রাখার সূত্র বের করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা

আফরিন মিম

চারণভূমিকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখার মূল চালিকাশক্তি শনাক্ত হয়েছে চীনের ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের এক যৌথ গবেষণায়। গবেষণায় দেখা গেছে, স্থানীয় ঘাসভূমির প্রজাতিগত বৈচিত্র্যই ওই স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি।

উত্তর-পশ্চিম চীনের কানুস প্রদেশে অবস্থিত লানচৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব ইকোলজির নেতৃত্বে এবং নেদারল্যান্ডস ও স্পেনের গবেষকদের সহযোগিতায় পরিচালিত এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল নেচার কমিউনিকেশনস-এ।

গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক লিউ সিয়াং বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ঘাসভূমির স্থিতিশীলতা বোঝা ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে এই গবেষণা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেবে।

দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা ধারণা করে আসছেন, বেশি প্রজাতিগত বৈচিত্র্য থাকলে প্রতিবেশব্যবস্থা স্থিতিশীল হয়। তবে বড় পরিসরে এই সম্পর্ক কতটা কার্যকর—তা জানতেই নতুন এই গবেষণা শুরু হয়।

গবেষণার জন্য চীনের ছিংহাই-তিব্বত মালভূমি ও ইনার মঙ্গোলিয়া মালভূমির মতো শুষ্ক ও শীতপ্রধান অঞ্চলে ২৩৫টি চারণভূমি নমুনা হিসেবে ঠিক করা হয়। সেখানে উদ্ভিদের প্রজাতি, কার্যকরী বৈশিষ্ট্য এবং মাটির ভৌত ও রাসায়নিক গুণাগুণ বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি, এক দশকের স্যাটেলাইট (রিমোট সেন্সিং) তথ্য ব্যবহার করে প্রতিটি এলাকায় উদ্ভিদ উৎপাদনশীলতার বার্ষিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রজাতির সংখ্যাধিক্য উৎপাদনশীলতাকে স্থিতিশীল করে, কিন্তু কার্যকরী বৈচিত্র্য কখনও কখনও অস্থিতিশীলতাও বাড়াতে পারে।

এ ছাড়া অঞ্চলভেদে স্থিতিশীলতার নিয়ামকও ভিন্ন। ইনার মঙ্গোলিয়া মালভূমিতে যেখানে পানির ঘাটতি বড় সমস্যা, সেখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতই প্রধান স্থিতিশীলকারী উপাদান। আবার ছিংহাই-তিব্বত মালভূমিতে, যেখানে তাপমাত্রা বড় সীমাবদ্ধতা, সেখানে স্থানীয় প্রজাতিগত বৈচিত্র্যই মূল ভূমিকা রাখে।

লিউ সিয়াং বলেন, মাঠপর্যায়ের গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি স্যাটেলাইট তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, স্থানীয় প্রজাতিগত বৈচিত্র্য ঘাসভূমির উৎপাদনশীলতা স্থিতিশীল রাখতে অপরিহার্য। একই সঙ্গে এই গবেষণা শুষ্ক ও শীতপ্রধান অঞ্চলের ঘাসভূমির টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দেবে।

সূত্র: সিসিটিভি

agriculturechina