লুৎফর কবির
উত্তাল সাগর, গভীর জল আর প্রতিকূল আবহাওয়া—এসব বাধা পেরিয়ে এবার সমুদ্র বশে এনে জলের বুকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক গড়ল চীন। দক্ষিণ চীন সাগরে তৈরি হলো বিশ্বের প্রথম ১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ভাসমান বায়ু বিদ্যুৎ প্ল্যাটফর্ম ‘হাইইউ আনলান’।
চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন—সিএনওওসি জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মটি লুফেং তেলক্ষেত্রের বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরাসরি সরবরাহ করছে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ। সাবমেরিন কেবলে করে সেই বিদ্যুৎ পৌঁছে যাচ্ছে তেলক্ষেত্রে। বছরে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে এই প্লাটফর্মের।
উত্তাল ও গভীর সমুদ্রে যেখানে টিকে থাকাই কষ্ট, সেখানে ভাসমান বায়ুবিদ্যুৎ প্ল্যাটফর্মের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে চীনের তৈরি বিশেষ ভাসমান কাঠামো। ‘হাইইউ আনলান’-এ ব্যবহার করা হয়েছে হালকা নকশা। প্রচলিত সেমি-সাবমার্সিবল প্ল্যাটফর্মের তুলনায় এতে ইস্পাতের ব্যবহার কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
প্রায় ৭ হাজার ৮০০ টন ওজনের প্ল্যাটফর্মটি পার্ল রিভার মাউথ বেসিনের উপকূল থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দূরে। প্লাটফর্মটির উচ্চতা প্রায় ১১০ তলা ভবনের সমান। আছে বিশাল উইন্ড টারবাইন ব্লেড, যা সাড়ে সাতটি ফুটবল মাঠের সমান।
চায়না অফশোর অয়েল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ইয়াং সিয়াওলং জানান,
‘হাইয়ু আনলান’ বিশ্বের প্রথম বায়ুশক্তি প্ল্যাটফর্ম যা কিনা পুরোপুরি ইস্পাতের কেবল এবং আধুনিক প্রযুক্তির মিশেলে তৈরি। আটটি ডিজাইন সলিউশন আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভ করেছে এটি, যা টেনশন-লেগ মুরিং সিস্টেমের নির্ভুল প্রযুক্তির শূন্যস্থান পূরণ করেছে। মোট ৭০ হাজার মিটারেরও বেশি ওয়েল্ডিং হয়েছে এতে। এর ফার্স্ট-পাস ওয়েল্ডিং কোয়ালিফিকেশন রেট ৯৯ শতাংশেরও বেশি।’
এ প্রকল্পে বছরে প্রায় ১৫ হাজার ঘনমিটার জ্বালানি তেল সাশ্রয় হবে। কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমবে প্রায় ৩৫ হাজার টন।
সূত্র: সিএমজি