চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ম্যানিলায় পূর্ব এশিয়া সহযোগিতা বিষয়ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশগ্রহণকালে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা পি. লাজারোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গতকালের (বুধবার) সাক্ষাতে রেন আই চিয়াও প্রসঙ্গে ফিলিপাইনের কাছে চীনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন ওয়াং ই এবং রেন আই চিয়াওতে ফিলিপাইনের কর্মীদের চীনের আইন প্রয়োগকারী জাহাজে ধাক্কা দেওয়ার কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
ওয়াং ই বলেন, গত কয়েক বছরে চীন-ফিলিপাইন সম্পর্ক নানা অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, যা স্পষ্টতই উভয় পক্ষের স্বার্থের পরিপন্থী এবং ফিলিপাইনের উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা প্রমাণ করেছে, কোনো দেশ যদি বহিরাগত শক্তিকে হস্তক্ষেপের সুযোগ দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে সামুদ্রিক মতভেদকে উসকে দেয়, তবে সেই দেশ অন্যের হাতিয়ারে পরিণত হয়। কেউ যদি বহিরাগত দেশগুলোর সহায়তায় উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে চায়, তবে শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের তৈরি তিক্ত ফলই ভোগ করতে হবে।’
ওয়াং ই বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, যখনই চীন ও ফিলিপাইন সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে, তখনই ফিলিপাইনের কিছু ব্যক্তি, বিশেষ করে সামরিক ও পুলিশ বিভাগের কিছু শক্তি, ইচ্ছাকৃতভাবে সংলাপের অগ্রগতিতে বাধা দিয়েছে।’
চীন-ফিলিপাইন সম্পর্ক সংকটময় মোড়ে আছে উল্লেখ করে ওয়াং ই বলেন, সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, সে বিষয়ে ফিলিপাইনকে সঠিক ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাজারো বলেন, ফিলিপাইন সবসময় এক-চীন নীতি মেনে চলে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করে আসছে। বিশ্বে মাত্র একটি চীন আছে এবং তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আরও বলেন, সংলাপের মাধ্যমে সামুদ্রিক সমস্যাগুলোর যথাযথ সমাধান খুঁজে বের করতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালাতে ফিলিপাইন আগ্রহী।
সূত্র: সিএমজি