চীনের থ্রিডি প্রিন্টিং: উপহারে সৃজনশীলতার নতুন জোয়ার

চীনে এবার ঘোড়া-বর্ষের আগে দক্ষিণ চীনের প্রযুক্তিনগরী শেনচেনে যেন আরেক ‘দৌড়’ শুরু হয়েছে—তবে তা ঘোড়ার নয়, থ্রিডি প্রিন্টারের। শত শত যন্ত্র একসঙ্গে কাজ করছে, তৈরি হচ্ছে ঘোড়ার আকৃতির অলংকার, সৌভাগ্যের প্রতীক ‘ফু’ লেখা সজ্জা এবং নানা ব্যক্তিগতকৃত উপহার।

শেনচেনের একটি কারখানায় প্রযুক্তিবিদ ইয়াং শেংউ প্রিন্টারগুলো প্রস্তুত করছিলেন নতুন অর্ডারের জন্য। মেশিন চালু হতেই নজল থেকে বের হওয়া গলিত লাল উপাদান তৈরি করছে উৎসবের নকশা। কারখানাটি পরিচালনা করছে শেনচেন হুয়াফাস্ট ইন্ডাস্ট্রি। সেখানে এখন ৫ হাজার থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে বিভিন্ন খেলনা ও

সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে। চলমান বসন্ত উৎসব ঘিরে ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী উপহারের অর্ডারে ব্যস্ত প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লি চিয়ান জানান, থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের বড় সুবিধা হলো গতি। ‘ডিজাইন থেকে বাজার—সবকিছু প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই করা যায়। ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ ছাঁচের প্রয়োজন নেই এতে’, বলেন তিনি। জটিল ফিজেট খেলনা পর্যন্ত এক টুকরায় প্রিন্ট করা সম্ভব, আলাদা করে জোড়া লাগাতে হয় না।

সম্প্রতি মাত্র এক সপ্তাহে ৪০ হাজার ডেস্কটপ অলংকার তৈরির অর্ডার পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এগুলোয় ছিল ঘোড়া ও সৌভাগ্যের প্রতীক ‘ফু’ অক্ষর।

থ্রিডি প্রিন্টিং চীনের ঐতিহ্যবাহী শিল্পেও পরিবর্তন আনছে। পূর্ব চীনের লাইশি শহরে কারিগররা ফুলের নকশার পিঠা বা স্টিমড বান তৈরিতে থ্রিডি প্রিন্টেড ছাঁচ ব্যবহার করছেন, ফলে দ্রুত ও নিখুঁত

উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

চিয়াংসি প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী পোর্সেলিন নগরী চিংতেচেনে শিল্পীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজাইন ও থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের সঙ্গে প্রাচীন গ্লেজ প্রযুক্তি মিলিয়ে নতুন ধরনের সিরামিক তৈরি করছেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনে থ্রিডি প্রিন্টিং সরঞ্জাম উৎপাদন ৫২.৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে চীনের অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের আকার ২০২১ সালের ২০.৮ বিলিয়ন ইউয়ান থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৭০ বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে।

ভোক্তা পর্যায়ের থ্রিডি প্রিন্টারের জনপ্রিয়তা বাড়ায় সাধারণ মানুষও এখন নিজেরাই উপহার তৈরি করতে পারছে। আরে তালিকায় আছে জুতা থেকে শুরু করে বাস্কেটবল পর্যন্ত।

চীনা নববর্ষের মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবেও

প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্রিডি প্রিন্টিং ভবিষ্যতে শুধু উপহার বা খেলনা নয়, শিল্প উৎপাদন, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কাস্টমাইজড পণ্যের ক্ষেত্রেও আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: সিএমজি