মার্চ ১২, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের বার্ষিক ‘দুই অধিবেশন’—দেশটির জাতীয় গণকংগ্রেস (এনপিসি) এবং শীর্ষ রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার বৈঠক চলাকালে বিজ্ঞানীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেছেন।
বিশাল টেলিস্কোপ থেকে শুরু করে গভীর ভূগর্ভস্থ গবেষণাগার—এ ধরনের বড় বৈজ্ঞানিক স্থাপনাগুলো ২০২৬–২০৩০ মেয়াদের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সময়ে নতুন উন্নয়ন পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
চীনের নতুন পাঁচবছর মেয়াদি পরিকল্পনার খসড়া রূপরেখায় এসব প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এবং এগুলোর অবকাঠামো নির্মাণ অব্যাহত রাখা ও আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
চীনা বিজ্ঞান একাডেমির সদস্য এবং জাতীয় মহাকাশ বিজ্ঞান কেন্দ্রের পরিচালক ওয়াং ছি ১৪তম জাতীয় গণকংগ্রেসের একজন প্রতিনিধি। তিনি বলেন, চীনের বড় বিজ্ঞান অবকাঠামো পরিকল্পনার ধরনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। আগে এসব প্রকল্প প্রধানত মৌলিক গবেষণার জন্য পরিকল্পনা করা হতো। এখন এগুলো মৌলিক ও প্রয়োগমূলক—দুই ধরনের গবেষণার চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে একক প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত প্রকল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ওয়াং ছি জানান, তার নেতৃত্বে পরিচালিত চাইনিজ মেরিডিয়ান প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ ২০২৫ সালের মার্চে জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এর মাধ্যমে মহাকাশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত স্থলভিত্তিক আঞ্চলিক পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
চীনে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপ ফাস্ট-এর প্রধান প্রকৌশলী চিয়াং পেং জানান, ২০২০ সালে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর থেকেই এই টেলিস্কোপ গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করে যাচ্ছে।
সম্প্রতি জানুয়ারিতে এটি একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা দলকে রহস্যময় ফাস্ট রেডিও বার্স্টের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ খুঁজে পেতে সহায়তা করেছে।
তিনি জানান, টেলিস্কোপটির জন্য ‘কোর অ্যারে’ নামে বড় আপগ্রেড পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ মিটার ব্যাসের কয়েক ডজন অ্যান্টেনা তৈরি করে মূল টেলিস্কোপের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
১৪তম এনপিসির আরেক প্রতিনিধি এবং চিয়াংমেন আন্ডারগ্রাউন্ড নিউট্রিনো অবজারভেটরি (চুনো) প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ওয়াং ইফাং জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে এই গবেষণাগার প্রথম বৈজ্ঞানিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। এই পরীক্ষায় নিউট্রিনো দোলনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি আরও নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে, যা গত এক দশকে বিশ্বের অনুরূপ পরীক্ষাগুলোর অগ্রগতিকে ছাড়িয়ে গেছে। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এখানকার বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোর ভর বিন্যাস নির্ধারণ করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
ওয়াং ছি মনে করেন, মহাকাশবিজ্ঞানের বড় বৈজ্ঞানিক অবকাঠামো এখন কৌশলগত রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলোকে চীনের বড় জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা উচিত—যেমন মানববাহী চন্দ্র অভিযান এবং আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্র।
ফয়সল/জেনিফার
তথ্য ও ছবি: সিএমজি