চীনের স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল বিশ্বের বৃহত্তম হিমশৈলের শেষ অধ্যায়

বিশ্বের একসময়ের সবচেয়ে বড় হিমশৈল এ২৩এ-এর ভেঙে যাওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নথিবদ্ধ করেছে চীনের আবহাওয়া স্যাটেলাইট। এমনটা জানিয়েছে চীনের আবহাওয়া প্রশাসন।

স্যাটেলাইটের তথ্য অনুযায়ী, হিমশৈলটির সবচেয়ে বড় অবশিষ্ট অংশ এখন মাত্র ১১ কিলোমিটার লম্বা এবং এর আয়তন কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটারে। ফলে এটাকে এখন আর হিমশৈল হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

চীনের ফংইয়ুন আবহাওয়া স্যাটেলাইট বহর দীর্ঘ সময় ধরে হিমশৈলটির গতি এবং ভেঙে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছে।

এটি ১৯৮৬ সালে ফিলকনার আইস শেলফ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন এর আয়তন ছিল প্রায় ৪ হাজার ১৭০ বর্গকিলোমিটার, পুরুত্ব ছিল ৪০০ মিটার এবং মোট ওজন ছিল প্রায় এক ট্রিলিয়ন টন।

এ গবেষণার নেতৃত্ব দেন চীনের জাতীয় স্যাটেলাইট আবহাওয়া কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারী সেবা কেন্দ্রের প্রধান বিশেষজ্ঞ চং চাওচুন।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বহু বছর ধরে আইসবার্গটি ওয়েডেল সাগরের সমুদ্রতলে আটকে ছিল। তবে ২০২০ সালের দিকে আশপাশের বরফ গলতে শুরু করলে এটি ধীরে ধীরে আলগা হতে থাকে।

২০২২ সালের শেষ দিকে আইসবার্গটির উল্লেখযোগ্য গতি শুরু হয়। ২০২৩ সালের শুরুতে এর আয়তন ছিল ৪ হাজার ৩৫ বর্গকিলোমিটার এবং তখন এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইসবার্গ হিসেবে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্বীকৃতি পায়। ২০২৪ সালে এটি ওয়েডেল সাগর ছেড়ে অ্যান্টার্কটিকের বৃত্তাকার স্রোতে প্রবেশ করে এবং দ্রুত উত্তর দিকে ভাসতে থাকে।

২০২৫ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কয়েকটি বড় ভাঙনের ফলে এর আয়তন দ্রুত কমে যায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মূল অংশ মাত্র ৫০৩ বর্গকিলোমিটারে নেমে আসে। শেষ পর্যন্ত মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরুতে আইসবার্গটি পুরোপুরি ভেঙে যায়।

গবেষকেরা জানান, আইসবার্গটির ভেঙে যাওয়ার সময় আশপাশের সমুদ্রে পরিবেশগত পরিবর্তনও দেখা গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে পানির রঙ সবুজাভ হয়ে উঠতে দেখা যায়, যা মূলত গলিত বরফের কারণে সৃষ্ট ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

সূত্র: সিএমজি

china