জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে চীন। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ১৭৩৭ ইরান নিষেধাজ্ঞা কমিটিকে সহায়তাকারী বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাবসংবলিত একটি খসড়া প্রস্তাব গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়।
চীনের এক কূটনীতিক বলেন, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা সমুন্নত রাখা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ইরানের পরমাণু ইস্যুর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবটির পক্ষে ১১টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে দুটি এবং দুটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন খসড়া প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। ফলে প্রস্তাবটি পাস হয়নি।
জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছোং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) থেকে সরে যাওয়া, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ, ইরানের সঙ্গে আলোচনার সময় দুই দফা শক্তি প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতাধীন ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় সামরিক হামলাই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।
ফু বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রচেষ্টা এবং স্পষ্টতই বিতর্কিত একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন নিরাপত্তা পরিষদের ঐক্য ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করবে। চীন এর দৃঢ় বিরোধিতা করে।‘
ফু আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে বারবার সংঘাত ইরানসহ বিভিন্ন দেশের জনগণের ওপর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। এসব সংঘাতের প্রভাব ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।‘
জেসিপিওএ-এর একটি পক্ষ এবং নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে চীন সবসময় ন্যায্যতা সমুন্নত রেখেছে, শান্তি ও আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, কোনো ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেনি এবং কোনো রাজনৈতিক সংঘাতে জড়ায়নি।
সূত্র: সিএমজি