চীন বুধবার নিজস্ব প্রক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক অ্যাটলাস ড্রোন-বহর পরিচালনা ব্যবস্থার প্রথম পূর্ণাঙ্গ কার্যপ্রক্রিয়ার ভিডিওচিত্র উন্মোচন করেছে।
স্থল যুদ্ধযান, নিয়ন্ত্রণ যান এবং সহায়ক যান নিয়ে গঠিত ড্রোন-বহরের ব্যবস্থাটি কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োগই প্রদর্শন করেনি, বরং গাণিতিক যুক্তিপ্রবাহ ভিত্তিক প্রযুক্তিতে চীনের দ্রুত অগ্রগতিও তুলে ধরেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে দৃশ্যত একই রকম তিনটি লক্ষ্যবস্তু স্থাপন করা হয়। ব্যবস্থাটি দ্রুত সমন্বিত পর্যবেক্ষণ চালায়, লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্যবস্তুটি শনাক্ত করে, লঞ্চারটি খোলে এবং এক ঝাঁক ড্রোন উৎক্ষেপণ করে। ড্রোনগুলো মাঝ-আকাশে দ্রুত লক্ষ্যবস্তুটিকে স্থির করে এবং নির্ভুলভাবে আঘাত হানে।
চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি কর্পোরেশনের লোগোযুক্ত সোয়ার্ম-২ নামের ড্রোনবহরটি তিন সেকেন্ডের উৎক্ষেপণ ব্যবধানের একটি কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রতিটি ইউনিটের জন্য নিরাপদ দূরত্ব এবং উড্ডয়ন পথ নিশ্চিত করতে প্রতি তিন সেকেন্ডে একটি করে ড্রোন ছাড়ে।
এ ব্যবস্থায় ভূমিতে থাকা যুদ্ধযান থেকে একসঙ্গে ৪৮টি একই আকারের ড্রোন বহন ও উৎক্ষেপণ করা যাচ্ছে। এগুলোকে সহজেই বিভিন্ন দলে একত্র করে জটিল মিশন পরিচালনায় সক্ষম বহুমুখী বহর গঠন করা যায়।
এ ছাড়াও, প্রয়োজনে ড্রোন উৎক্ষেপণের ধরন এবং ক্রমবিন্যাসও পরিবর্তন করা যেতে পারে। এতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রথমে একধরনের ড্রোন মোতায়েন করা যেতে পারে, অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য আক্রমণ-ড্রোনের আগে বিশেষ সংকেত-ড্রোনও পাঠানো যেতে পারে।
ঝাঁক-বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থায় পরিচালিত বহরটি ১০০টি উচ্চগতির ড্রোন নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে সুনির্দিষ্ট বিন্যাস তৈরি করতে পারে। মাঝ-আকাশে সংঘর্ষ এড়াতে এগুলো বায়ুপ্রবাহের মতো পরিবেশগত কারণগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনায় নিতে পারে।
সূত্র: সিএমজি