শুভ আনোয়ার
৩৫ দশমিক ৬ টেসলা শক্তিসম্পন্ন একটি ‘অল-সুপারকন্ডাক্টিং ইউজার ম্যাগনেট’ তৈরি করেছে চীন। এই চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তি পৃথিবীর স্বাভাবিক চৌম্বক ক্ষেত্রের তুলনায় ৭ লক্ষ গুণেরও বেশি। এর মাধ্যমে অল-সুপারকন্ডাক্টিং ইউজার ম্যাগনেটের ক্ষেত্রে নতুন বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করল চীন।
চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেসের গবেষকদের এই সাফল্য উচ্চ-তাপমাত্রার সুপারকন্ডাক্টিং অ্যাপ্লিকেশন বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে চীনের বৈশ্বিক নেতৃত্বকে আরও সুসংহত করল।
৩৫ মিলিমিটার ব্যাসের চুম্বকটি উচ্চ-তাপমাত্রার সুপারকন্ডাক্টিং ইনসার্ট ম্যাগনেট প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ২০২৩ সালে এটি ৩০ টেসলা শক্তিতে পৌঁছেছিল, যা তখনই দেশি-বিদেশি গবেষকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে উপাদানের মানোন্নয়ন এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্প্রতি এর শক্তি ৩৫.৬ টেসলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে এটিই বিশ্বের একমাত্র অল-সুপারকন্ডাক্টিং সিস্টেম যা মেটেরিয়াল সায়েন্স গবেষণার জন্য ৩০ টেসলার বেশি চৌম্বক শক্তি প্রদান করতে সক্ষম।
গবেষকদের মতে, এই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে উচ্চ চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে পদার্থের গঠনগত ও কার্যকারী মৌলিক তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হবে। এর উচ্চ রেজোলিউশনের ফলে জৈবিক কোষ বা অণুর আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র প্লাজমা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পারমাণবিক ফিউশন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহায়তা দেবে।
একাডেমি অফ সায়েন্সেসের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ফেলো ওয়াং ছিউলিয়াং বলেন, ৩৫ টেসলা একটি বিশাল প্রযুক্তিগত উল্লম্ফন। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো ৪০ টেসলার মাইলফলক স্পর্শ করা। অন্যদিকে, ইনস্টিটিউট অফ ফিজিক্সের ফেলো লুও চিয়ানলিন জানান, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স আরও নিখুঁত হবে।
বেইজিংয়ের হুয়াইরো সায়েন্স সিটিতে অবস্থিত ‘কম্প্রিহেনসিভ রিসার্চ ফ্যাসিলিটি ফর এক্সট্রিম কন্ডিশনস’-এ এই ম্যাগনেট সিস্টেমটি স্থাপন করা হয়েছে। এই জাতীয় গবেষণাগারে অতি-নিম্ন তাপমাত্রা, উচ্চ চাপ এবং শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের মতো চরম পরিবেশ তৈরি করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়।
সূত্র: সিএমজি