চীনের মানববাহী সাবমার্সিবল ‘চিয়াওলং’। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে সফলভাবে ৪৭০তম ডাইভ সম্পন্ন করে বিরল সামুদ্রিক স্পঞ্জসহ অজানা সমুদ্রজীবের আলোকচিত্র ধারণ করেছে এটি। এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান গভীর সমুদ্রের বিরল জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র অনুধাবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন মেরিন গবেষকরা।
পৃথিবীর তিন- চতুর্থাংশ জুড়ে থাকা মহাসাগরের অতল গহ্বরে লুকিয়ে রয়েছে অগণিত রহস্য। সেই রহস্যের জট খুলতেই পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে অভিযানে নেমেছে চীনের আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন মানববাহী সাবমার্সিবল ‘চিয়াওলং’। সম্প্রতি সফলভাবে নিজেদের ৪৭০তম ডাইভ সম্পন্ন করে সাবমার্সিবলটি নিয়ে এসেছে গভীর সমুদ্রের রোমাঞ্চকর ও বিস্ময়কর কিছু তথ্য ও চিত্র।
গেল ১৫ অক্টোবরের এই অভিযানে চিয়াওলংয়ের পর্যবেক্ষণ জানালা দিয়ে গবেষকদের চোখে ধরা পড়ে এক অনন্য দৃশ্য—সমুদ্রের তলদেশে টিকে থাকা বিরল প্রজাতির এক সামুদ্রিক স্পঞ্জ। সূর্যালোক পৌঁছায় না এমন ঘুটঘুঁটে অন্ধকার ও প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কীভাবে এই বিচিত্র প্রাণীগুলো জীবনধারণ করে, তা গবেষকদের গভীরভাবে আলোড়িত করেছে।
গবেষণা জাহাজ ‘ডিপ সি নম্বর ১’-এর অধীনে পরিচালিত এই গভীর সমুদ্র অভিযানে চিয়াওলংয়ের ভেতরে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার একজন প্রতিনিধি। তিনি স্বচক্ষে পানির নিচের এই অবিশ্বাস্য জগৎ পর্যবেক্ষণ করেন এবং রহস্যময় সমুদ্রজীবের দুর্লভ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করেন।
চীনের এই আধুনিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান শুধু নতুন চিত্র সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমুদ্রবিজ্ঞানীদের মতে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর জলজ পরিবেশ, সেখানকার বৈচিত্র্যময় জীবজগৎ এবং পুরো সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) বোঝার ক্ষেত্রে এই মিশন এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। প্রতিকূল পরিবেশে জীবনের অভিযোজন ক্ষমতা জানার পাশাপাশি গভীর সমুদ্র সংরক্ষণেও এই নতুন তথ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
অন্ধকার সমুদ্রের নীলাচল থেকে চিয়াওলংয়ের নিয়ে আসা এসব দৃশ্য আরও একবার মনে করিয়ে দেয়—আমাদের চেনা পৃথিবীর বাইরেও সমুদ্রের গভীরে এক অচেনা, রঙিন ও বিস্ময়কর জগৎ নীরব প্রহরে প্রানবন্ত হয়ে আছে, যা উন্মোচনে বিজ্ঞান কেবল তার প্রথম পদক্ষেপ ফেলল।
সূত্র: সিএমজি