বহুজাতিক কোম্পানির জন্য নতুন সুযোগ ‘শপিং ইন চায়না’

ফয়সল আবদুল্লাহ

বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে ‘শপিং ইন চায়না’ উদ্যোগ। অভ্যন্তরীণ ভোগ বৃদ্ধি এবং ভোক্তাবাজার আরও উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টা জোরদার করছে চীন সরকার। সেই প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও মত দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

‘শপিং ইন চায়না’ উদ্যোগটি প্রথম চালু হয় গতবছরের এপ্রিলে। এর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ভোক্তা পরিবেশ তৈরি এবং উন্নতমানের পণ্য ও সেবার সরবরাহ বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানো।

নীতিগতভাবে এই কর্মসূচির আওতায় ট্যাক্স রিফান্ড সহজীকরণ, পেমেন্ট ব্যবস্থা উন্নত করা, প্রচারণা কার্যক্রম এবং ১৫টি পাইলট শহরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বিদেশি খুচরা ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যার সমাধান করছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশি পর্যটকদের ট্যাক্স রিফান্ড গ্রহণের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে রিফান্ড-যোগ্য পণ্যের বিক্রি ৯৫.৯ শতাংশ এবং রিফান্ডের মূল্য ৯৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ ভোগ বৃদ্ধির শক্তিশালী গতি নির্দেশ করে।

জাতীয় কর প্রশাসনের কর্মকর্তা সিয়ে ওয়েন জানান, চীনা সংস্কৃতি-অনুপ্রাণিত পণ্য (চায়না-চিক) এবং অন্যান্য জনপ্রিয় পণ্য বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। স্মার্টফোনের মতো প্রযুক্তিপণ্য এবং রেশম ও চায়ের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বিক্রিও দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

এই উদ্যোগ শুধু খুচরা খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সেবা, সংস্কৃতি, বিনোদন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতেও বিস্তৃত—যেখানে অনেক মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। স্মার্ট হোম, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ঐতিহ্যভিত্তিক স্কিনকেয়ার পণ্যের ক্ষেত্রে চীনা ব্র্যান্ডগুলো এখন নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলছে।

মেড ইন চায়না থেকে এখন ‘ডিজাইনড অ্যান্ড ব্র্যান্ডেড ইন চায়না’র দিকে অগ্রসর হওয়া বর্তমান বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি, যা ভোক্তাদের জন্য উন্নত পণ্য এবং কোম্পানিগুলোর জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করছে।

সিএমজি

businesschinashopping