বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থায় চীনের প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে ‘মানবজাতির জন্য অভিন্ন ভবিষ্যতের সমাজ’ গঠনের যে দর্শন দেশটি প্রচার করছে, তা জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ও নীতিমালার সাথে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। সম্প্রতি চায়না মিডিয়া গ্রুপকে (সিএমজি) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন চীনে নিযুক্ত জাতিসংঘের নতুন আবাসিক সমন্বয়কারী স্টেফান জ্যাকসন।
গত এপ্রিলে দায়িত্ব গ্রহণের পর চীন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও কর্মতৎপরতা প্রত্যক্ষ করে নিজের মুগ্ধতার কথাও জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে স্টেফান জ্যাকসন বলেন, ‘এটি একটি জটিল সময়। এ সময়ে চীনের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত দৃশ্যমান, গঠনমূলক এবং বহুপক্ষীয়। বিশ্বমঞ্চে চীন একটি গঠনমূলক কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছে, যা সংঘাতের চেয়ে সংলাপকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্বের স্বার্থেই বহুপক্ষীয়তাকে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একসাথে থাকলে ভালো থাকব, বিচ্ছিন্ন থাকলে নয়। একসাথে কাজ করলেই একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মূল কথা হলো “কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না”, যা মূলত একটি অভিন্ন ভবিষ্যতেরই বার্তা দেয়।’
২০২১ সাল থেকে চীন চারটি বড় বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে—গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ, গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ, গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ এবং গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ। জ্যাকসন জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য বিমোচন, অসমতা হ্রাস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই উদ্যোগগুলো অত্যন্ত কার্যকর।
সিএমজি