এপ্রিল ১: লেবাননে চলমান সংঘাত নিরসনে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে চীনের প্রতিনিধি এই সতর্কবাণী দেন যে, লেবাননকেও যেন গাজার মতো ধ্বংসযজ্ঞের দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়।
সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ’র মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ এবং লেবাননে দায়িত্বরত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল জিন-পিয়েরে ল্যাক্রোইক্সসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা লেবাননের ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি এবং শান্তিরক্ষীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
জাতিসংঘে চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি সুন লেই তার বক্তব্যে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং এর প্রভাব চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, লেবানন যেন কোনোভাবেই দ্বিতীয় গাজায় পরিণত না হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজার ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি হতে দিতে পারে না। চীন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে।
চীন স্পষ্ট ভাষায় দাবি জানিয়েছে, ইসরায়েলকে অতি দ্রুত লেবানন থেকে তাদের সমস্ত সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
গত সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিস্ফোরণে ইন্দোনেশীয় এক শান্তিরক্ষী নিহত এবং অন্য একজন আহত হওয়ার ঘটনায় চীন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সুন লেই বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর যে কোনো ইচ্ছাকৃত হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের গুরুতর লঙ্ঘন।
চীন এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে। নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন চীনের প্রতিনিধি।
বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শান্তি আলোচনা শুরু করা। সংঘাত বন্ধ করে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মহলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছে বেইজিং।
সূত্র: সিএমজি