সেবা বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন ও যুক্তরাজ্য

জুলাই ৪, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: বৈশ্বিক বাণিজ্যে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যেও সেবা বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে চীন ও যুক্তরাজ্য। দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক সেবা বাণিজ্য চুক্তি-সংক্রান্ত যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা, পেশাদার পরামর্শ, শিক্ষা এবং সৃজনশীল শিল্পসহ উচ্চমূল্য সংযোজিত বিভিন্ন সেবা খাতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বৃহস্পতিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত চীন-যুক্তরাজ্য অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক যৌথ কমিশনের বৈঠকে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনথাও এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে ওয়াং ওয়েনথাও যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য ন্যায্য, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পিটার কাইল বলেন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাই চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের দ্রুত সম্প্রসারিত সেবা খাত ব্রিটিশ ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।

তবে বৈঠকে যুক্তরাজ্যের নতুন ইস্পাত আমদানি নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চীন। নতুন নীতির আওতায় শুল্কমুক্ত ইস্পাত আমদানির কোটা ৫১ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে এবং নির্ধারিত কোটার অতিরিক্ত আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে এ নীতিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে, চায়না-ব্রিটেন বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সেবাস্তিয়ান উড বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য সংরক্ষণবাদী নীতি বা নতুন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কার্যকর সমাধান নয়। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ পণ্যের দাম বাড়াবে এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল করবে। বরং যুক্তরাজ্য থেকে চীনে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং চীনা বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করার মাধ্যমেই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ করা সম্ভব।

চীনের কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে চীন ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ৩০৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

সূত্র: সিএমজি

china