প্রেক্ষাপট: ছেলের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি দেখে বাবার মৃত্যু, একই দিনে বাবা-ছেলের জানাজা

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের লোহাচুড়া গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন দিনমজুর লিটন কাজী (৩২) ও তাঁর বাবা মান্নান কাজী। ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ ও টাকা জোগাড় করতে না পেরে গত ১৬ আগস্ট লিটন বিষপান করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে প্রথমে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রতিবেশী বাচ্চু শেখ জানান, লিটন অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। তাঁর স্ত্রী কাকলি একটি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি ঋণ নেওয়া হয়, যার ফলে পরিবারের ওপর ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে। কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় লিটন চরম মানসিক চাপে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার বিকেলে লিটনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ছেলের নিথর দেহ দেখে বাবা মান্নান কাজী শোকে পাথর হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। মহারাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন বাবা-ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরবর্তীতে লোহাচুড়া গ্রামে বাবা ও ছেলের জানাজার নামাজ একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। একই দিনে বাবা-ছেলের এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকাহত পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঋণের বোঝাগোপালগঞ্জজানাজামুকসুদপুরমৃত্যু