বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতাদের নিরাপত্তা ঘটনায় ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত এলাকা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নারীঘটিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমের বাড়িতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের চারজন আহত হয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক পিয়াস আহমেদ রিফাত এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল মোল্যা। অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যে আহত হয়েছেন ওই বাড়ির মালিক রহিম, তার স্ত্রী ও চরকাউয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য শিল্পী বেগম, তাদের ছেলে আরমান এবং জামাতা রিয়াজ মোল্লা।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, সোমবার রাতে ছাত্রদলের তিন নেতা ওই এলাকায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় রহিমের বাড়িতে সন্দেহজনকভাবে দুই নারী ও এক যুবককে প্রবেশ করতে দেখে তারা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। ছাত্রদল নেতাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং মীমাংসার প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর রহিমের জামাতা রিয়াজ ও ছেলে আরমান তাদের ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করেন এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করেন।

এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা আরেক ছাত্রদল নেতা রায়হান পালিয়ে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য নেতাকর্মীদের খবর দেন। পরে তারা এসে আটক নেতাদের উদ্ধার করলে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি বেধে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়ার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে নারী এনে তাদের জিম্মি করার চেষ্টা করেছিল। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা যাওয়ার সময় বাড়িঘর তছনছ করেছে এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি ভয়ে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল হোসেন জানান, ঘটনার সময় চিৎকার শুনে তিনি বাইরে এসে মারামারির দৃশ্য দেখেন এবং অনেক শিক্ষার্থীকে বাড়িঘর লুটপাটে অংশ নিতে দেখেছেন।

বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, মোবাইল ফোনে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশি টহল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আহত একজনকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় মামলা দায়ের করেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৯ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জুয়েল হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি আমার বাড়ির পাশেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি ভবনে নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতাদের পূর্বপরিচিত রহিমের জামাতা রিয়াজ মোল্লা তাদের বাসার ভেতরে নিয়ে যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গেও তাদের মারামারি হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এসে বাড়িঘর লুটপাট করেছে।’।

আইন-শৃঙ্খলাছাত্রদলবরিশালবরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সংঘর্ষ