ফয়সল আবদুল্লাহ
চীনে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি (টিসিএম) ও পাশ্চাত্য চিকিৎসার সমন্বিত ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, দুই পদ্ধতির শক্তিকে একত্রে কাজে লাগালে রোগীদের চিকিৎসা ও সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ে।
প্রায় চার দশক আগে টিসিএম কলেজ থেকে পাস করার পর চিকিৎসক হৌ ওয়েই ক্যান্সার চিকিৎসায় ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি বেছে নেন। এখন তিনি বেইজিংয়ের চীনা মেডিক্যাল বিজ্ঞানের চীন একাডেমির অধীন কুয়াংআনমেন হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের পরিচালক।
হৌ বলেন, টিসিএমের তত্ত্ব যেমন ‘ইন-ইয়াং’ বা ‘পাঁচ উপাদান’ প্রথমে বোঝা কঠিন ছিল। তবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, অনেক রোগী তার চিকিৎসায় উন্নতি অনুভব করেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, পাশ্চাত্য চিকিৎসার তুলনায় টিসিএমের সঙ্গে সমন্বিত চিকিৎসায় ফুসফুসের একটি বিশেষ ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর দুই বছরের মধ্যে ক্যান্সারের ফিরে আসা ও মেটাস্টেসিসের হার প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে রোগীদের গড় বেঁচে থাকার সময় ৩ দশমিক ৪৭ মাস পর্যন্ত বাড়াতে সহায়তা করেছে।
হৌয়ের মতে, পাশ্চাত্য চিকিৎসা যেখানে সরাসরি টিউমারকে লক্ষ্য করে, সেখানে টিসিএম শরীরের সামগ্রিক শক্তি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়। আর এ কারণে। িক্যান্সার প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসহ সব পর্যায়েই টিসিএমের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এসব গবেষণায় এখন রোগীদের জন্য ভেষজ, আকুপাংচার এবং থাই-চি অনুশীলনের মতো পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে।
২০২৩ সালে চীনা কর্তৃপক্ষ ক্যানসার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের নির্দেশিকায় টিসিএম ও পাশ্চাত্য চিকিৎসার সমন্বিত চিকিৎসা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়। পাশাপাশি ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও এই সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিএমজি বাংলা