যারা উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে গিয়েছিলেন, তারা পড়াশোনা শেষ করে ফিরছেন দেশে। চীনের তরুণ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা এভাবেই দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি খাত, বড় বাজার এবং সরকারি সহায়তার সুবাদে নিজ দেশের উদ্ভাবন ও গবেষণায় যোগ করছেন নতুন গতি।
এক্ষেত্রে বলা যায় হান বিছেংয়ের কথা। হাংচৌ শহরে তিনি এখন ব্রেন–কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সময় এই প্রযুক্তি মূলত গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরে তিনি গবেষণা দল নিয়ে হাংচৌ ফিউচার বিজ্ঞান-প্রযুক্তি শহরে কাজ শুরু করেন, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন তাকে বিভিন্ন সহায়তা দেয়।
চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই বিদেশে পড়াশোনা শেষে চীনে ফিরেছেন প্রায় ৫ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী। ১৯৭৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিদেশে পড়াশোনা শেষ করা ৭৪ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৬৪ লাখই দেশে ফিরেছেন।
দেশে ফেরা অনেক চীনা তরুণ জানালেন, চীন এমন কিছু সুবিধা দেয় যা অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন। চীনের জাতীয় শিক্ষামূলক বিজ্ঞান একাডেমির সহযোগী গবেষক কুও ইউয়ানচি বলেন, চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার, এবং প্রশাসনের নীতিগত সমর্থন শিক্ষিত পেশাদারদের ব্যবসা শুরুর শক্তিশালী প্রণো দনা দেয়।
একই মত জানালেন হাংচৌর সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যানিকোর টেক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা চু হাও। চু ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং আগে মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনে কাজ করেছেন। তার মতে, চীনের পরিপক্ক শিল্প বাস্তুতন্ত্র আছে। এটি শিল্প ডিজিটালাইজেশনে অর্থপূর্ণ অবদান রাখে।
এদিকে, চীন শুধু বিদেশি প্রতিভাকেই গ্রহণ করছে না, বরং গত কয়েক দশকে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য একটি নীতি কাঠামোও তৈরি করেছে।
এর আওতায় দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান প্রদেশে, বাইরে থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিরা স্টার্টআপ তহবিল হিসাবে তিন লাখ ইউয়ান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রকল্পের জন্য সহায়তা হিসাবে এক লাখ ইউয়ান পেতে পারেন।
হাংচৌর ফিউচার সায়েন্স-টেক সিটির মতো উদ্ভাবনী কেন্দ্রগুলো প্রত্যাবর্তীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘ওয়ান-স্টপ’ পরিষেবা দিয়ে আরও সহায়তা করে, যা তাদের প্রশাসনিক পদ্ধতির পরিবর্তে উদ্ভাবনে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।
যখন অসুবিধা দেখা দেয়, স্থানীয় সরকারগুলো প্রায়শই দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। ছেংতুতে ২০১৪ সালে যখন নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি এবং এআই-চালিত ফটো এডিটিং প্ল্যাটফর্ম ফোটর-এর প্রতিষ্ঠাতা তুয়ান চিয়াং তহবিল সংকটে পড়েন, তখন পৌর সরকার তার দলকে একটি শীর্ষ উদ্ভাবনী পুরস্কার দেয়। ওই পুরস্কারটাই কোম্পানিটিকে একটি সংকটময় সময় পার করতে সাহায্য করেছিল।
একইভাবে, যখন হানের ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস কোম্পানি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়, তখন তাকেও শীর্ষ-স্তরের প্রতিভা নিয়োগে সহায়তা করে স্থানীয় সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার ফলশ্রুতিতে চীনের নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ব্রেন–কম্পিউটার ইন্টারফেস এবং বায়োম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো অগ্রগামী প্রযুক্তিতেও নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসছেন।
সূত্র: সিএমজি