আব্দুস সাত্তার সুমন
আকাশে মেঘ নেই, দুপুরের রোদে কাশবনটা যেন সাদা সোনায় ঝলমল করছে। ঠিক সেই সময় গ্রামের দুই বন্ধু আনাস আর হাসান স্কুল ফাঁকি দিয়ে রওনা হলো কাশবনের দিকে।
হাসান বলল,
শুনেছি রাতে এই বনে ঘণ্টার আওয়াজ আসে, কেউ জানে না সেটা কোথা থেকে আসে!
আনাস হেসে বলল,
চল আজই রহস্যটা বের করব!
দুজনেই ব্যাগে বিস্কুট, টর্চ আর এক পুরনো ম্যাগনিফাইং গ্লাস নিয়ে রওনা হলো।
কাশবনের ভেতর ঢুকতেই বাতাসে মিষ্টি গন্ধ– যেন কেউ ফুলে ফুলে মধু ছিটিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ পায়ের নিচে কচ্ করে কিছু ভাঙল। নিচে দেখে তারা অবাক একটা ছোট্ট কাঁচের ঘণ্টা,
যার গায়ে লেখা,
কাশবনের রক্ষক ছুঁও না!
হাসান বলল, ওরে বাবা! রক্ষক মানে ভূত নাকি?
আনাস হেসে বলল, না, এটা হয়তো কোনো পুরনো কাঁচের ঘন্টা!
তারা ঘণ্টাটা ব্যাগে রাখতেই কাশফুলগুলো হঠাৎ দুলে উঠল, বাতাসে শোঁ শোঁ আওয়াজ মনে হলো কেউ খুব রেগে গেছে!
তারপরেই চোখের সামনে নেমে এলো এক ঝলমলে আলোর বল, ভেতর থেকে বের হলো এক ছোট্ট পরী, চোখে সোনালী ঝিলিক, কণ্ঠে ঘণ্টার মতো সুর।
পরী বলল,
তোমরা কি জানো এই ঘণ্টা কেন বাজে? এটা আমাদের বনকে দুষ্টু আগুন পোকাদের হাত থেকে বাঁচায়। তারা এলে ঘণ্টা বাজে, আমরাও জেগে উঠি।
হাসান ভয় পেয়ে বলল,
আমরা ভুল করেছি, দয়া করে রাগ কোরো না।
পরী মিষ্টি হেসে বলল,
তোমরা সাহসী, তাই শাস্তি নয় একটা দায়িত্ব দিচ্ছি।
তারপর সে তাদের দুজনের হাত ছুঁয়ে দিল। মুহূর্তেই তারা দেখতে পেল কাশবনের প্রতিটি ফুলের ভেতর ছোট ছোট আলো জ্বলছে। সেই আলো নড়ছে, হাসছে, এমনকি হাত নাড়ছে!
পরী বলল,
এই আলোরা হলো ‘কাশবনের প্রাণ’। যদি কেউ ফুল ছিঁড়ে, আলো নিভে যায়, বন মরে যায়। তোমরাই এখন এই বনের ‘রহস্যঘণ্টা রক্ষক’। যখনই কেউ বনের ক্ষতি করবে, তোমাদের কানে ঘণ্টা বাজবে টিং টিং টিং!
দুজনেই অবাক, খুশি আর ভয়মিশ্রিত উত্তেজনায় দৌড় দিল গ্রামে ফিরে।
রাতে যখন তারা ঘুমাতে গেল, হঠাৎ আনাসের কানে বাজল টিং টিং টিং!
সে উঠে জানালার বাইরে তাকালো দেখল কয়েকটা ছেলেকে কাশফুল ছিঁড়তে।
আনাস চিৎকার করে বলল, থামো! ওটা বনের প্রাণ!
ছেলেরা থেমে গেল। হঠাৎ চারপাশে এক হালকা নীল আলো ঝলমল করে উঠল, কাশবন যেন হাসছে।
হাসান নিচু কন্ঠে বলল,
দেখলি রে, আমরা সত্যিই বনের রক্ষক হয়ে গেছি!