তুমি ও আমি

বৃষ্টি আরা (বৃষ্টি)

তুমি ছিলে আমার অস্তিত্বের অতল অভিলেখে উৎকীর্ণ এক অবিনশ্বর আলোকতত্ত্ব,

যার দীপ্তিতে সংশয়ের কৃষ্ণগহ্বরও খুঁজে পেয়েছিল প্রত্যয়ের মহাজাগতিক ব্যাকরণ।

আমি তোমার প্রতিশ্রুতির শিলালিপিতে নির্মাণ করেছিলাম অনাগত দিনের দুর্ভেদ্য উপাসনালয়,

অথচ তোমারই অদৃশ্য করতলে প্রতিদিন ক্ষয়িষ্ণু হতে থাকল তার ভিত্তির অধিবিদ্যা।

তোমার স্নিগ্ধ উচ্চারণের অন্তঃসলিলে জন্ম নিল বিষণ্নতার অণুবীক্ষণযোগ্য বিষবীজ,

আর আমার নীরবতা হয়ে উঠল অনুভূতির সমাধিলিপিতে আবদ্ধ এক নির্বাসিত মহাদেশ।

তুমি ভালোবাসার নন্দনতত্ত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে বদলে দিলে তার অন্তর্গত নৈতিক সংবিধান।

আর আমি,

আমি প্রতিটি আঘাতকে অনুবাদ করেছি অব্যক্তির দুর্বোধ্য লিপিতে 

যেখানে ,তুমি আমার সহিষ্ণুতাকে ভেবেছ আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত দার্শনিক স্বীকৃতি।

অথচ আমার স্তব্ধতার ভূত্বকের নিচে সঞ্চিত হয়েছে বিপর্যয়ের টেকটোনিক অভিঘাত 

যার কম্পাঙ্ক তোমার শ্রবণাতীত,

অথচ আমার অস্তিত্বের মেরুদণ্ডে অনিবার্য।

তুমি ছিলে বিশ্বাসের মহীরুহ

যার ছায়ায় শিখেছিলাম আশ্রয়ের প্রত্নতত্ত্ব।

কিন্তু ,তোমারই শিকড়ে জন্ম নিল এমন শৈত্য, যা বসন্তের ক্রোমোজোমেও দুর্জ্ঞেয়।

আমি পরিণত হলাম তোমার আবেগীয় ভূগোলের এক নামহীন মৃত্তিকাস্তর,

যেখানে অশ্রুর লবণাক্ততা রচনা করে বিস্মৃতির অনতিক্রম্য ভূতাত্ত্বিক দলিল।

তোমার কাছে বিচ্ছেদ নিছক বিরামচিহ্ন, আমার কাছে অস্তিত্বের বর্ণমালা বিলুপ্তি।

তোমার কাছে নৈঃশব্দ্য প্রশান্তি, 

আমার কাছে আত্মপ্রত্যয়ের ক্রমাগত প্রত্নখনন।

আমাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব কোনো স্থানাঙ্কের ব্যবধান নয়—এক মনস্তাত্ত্বিক কৃষ্ণপর্দা,

যার এক প্রান্তে তুমি স্মৃতির সৌন্দর্য আগলে রাখো,

আর অন্য প্রান্তে আমি ক্ষতের জীবাশ্ম গণি।

তবু তোমার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই

আছে অব্যক্ত বেদনার অধিবিদ্যাগত সাক্ষ্য,

যেখানে ভালোবাসা তার পবিত্র অভিধা হারিয়ে আত্মবিরোধের গোলকধাঁধায় পর্যবসিত।

তুমি রয়ে গেলে আমার বিশ্বাসের নন্দনমণ্ডিত বিপর্যয়, আলোকপ্রাপ্তির অন্তর্গত অন্ধকার,

আর আমি—তোমার স্নেহের ধ্বংসাবশেষে প্রোথিত এক নির্বাক প্রত্নলিপি, 

যার পাঠোদ্ধারে অনন্তকালও অপর্যাপ্ত।

poemstoriesকবিতাগল্প