মার্চ ১৭, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের শাংহাইয়ে তৈরি হাতের নড়াচড়া পুনরুদ্ধারে সহায়ক একটি ইমপ্লান্টযোগ্য ব্রেন–মেশিন ইন্টারফেস ডিভাইস বাজার অনুমোদন পেয়েছে। এটি বিশ্বের প্রথম ইনভেসিভ বিএমআই চিকিৎসা ডিভাইস, যা বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি পেল।
নিউরাকল টেকনোলজির তৈরি যন্ত্রটি প্রথমবারের মতো কোনো রোগীর ওপর ব্যবহার করা হতে পারে।
চীনের জাতীয় ওষুধ প্রশাসন শুক্রবার এ পণ্যের জন্য নিবন্ধন সনদ দিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে অংশগ্রহণকারীদের হাত দিয়ে বস্তু ধরার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
ডিভাইসটি মূলত ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী এমন রোগীদের জন্য তৈরি, যাদের ঘাড়ের মেরুদণ্ডে আঘাতজনিত কারণে চারটি অঙ্গ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা হাত দিয়ে কিছু ধরতে পারেন না।
এ প্রযুক্তিতে একটি ছোট মুদ্রার মতো যন্ত্র মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি রিয়েল-টাইমে মস্তিষ্কের সংকেত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। সেই সংকেতের মাধ্যমে রোগী বিশেষ ধরনের গ্লাভস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং চিন্তার মাধ্যমে কোনো বস্তু ধরতে পারেন।
ডিভাইসটির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হলো ‘এক্সট্রাডিউরাল ইমপ্লান্টেশন’ প্রযুক্তি। এতে ইলেক্ট্রোড মস্তিষ্কের বাইরের অংশে স্থাপন করা হয়। ফলে মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং সংকেতের মানও ভালো থাকে।
এই সিস্টেমে তারবিহীন বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, ফলে একবার অস্ত্রোপচারেই দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায়। অস্ত্রোপচারে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে এবং সাধারণত এক মাসের মধ্যে রোগীরা বাড়িতে বসেই এটি ব্যবহার করতে পারেন।
৩৬ জন অংশগ্রহণকারী নিয়ে করা পরীক্ষায় ডিভাইসটি ব্যবহারের ফলে হাত দিয়ে বস্তু ধরার ক্ষমতা ১০০ শতাংশ উন্নতির হার দেখিয়েছে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে স্নায়ুর পুনর্গঠন এবং অতিরিক্ত স্নায়বিক কার্যক্ষমতা ফিরে পাওয়ার লক্ষণও দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রেন–মেশিন ইন্টারফেস প্রযুক্তি সমন্বিত সার্কিট, বায়োমেডিসিন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। এই ডিভাইসের ক্লিনিক্যাল ব্যবহার স্নায়ুবিক রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
শাংহাইতে এখন প্রায় ৬০টি বিএমআই প্রযুক্তি কোম্পানি রয়েছে, যা এই খাতে চীনের অন্যতম প্রধান উদ্ভাবনকেন্দ্র হিসেবে শহরটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ফয়সল/শুভ
তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি, সিএমজি