ফয়সল আবদুল্লাহ: দক্ষিণ চীনের হাইনান প্রদেশের লিংশুই কাউন্টিতে চালু হয়েছে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক আন্ডারওয়াটার ডেটা সেন্টার। সমুদ্রের নিচের এই ডেটা সেন্টার এখন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে চীনের এক অনবদ্য মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রে শীতল পরিবেশ রাখাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আর এ কাজটা এখানে হচ্ছে সমুদ্রের প্রাকৃতিক পরিবেশ কাজে লাগিয়ে। এতে প্রচলিত স্থলভিত্তিক ডেটা সেন্টারের চেয়ে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম ব্যবহার হচ্ছে।
ডেটা সেন্টারে কুলিংয়ের জন্য মিঠা পানির পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে সমুদ্রের পানি। ফলে প্রচলিত ডেটা সেন্টারে যে বিপুল পরিমাণ পানির অপচয় হয়, সেটাও পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে সমুদ্রের নিচে হওয়ায় বেঁচে গেছে জমির ব্যবহার।
হাইক্লাউড ডেটা সেন্টার টেকনোলজি কোম্পানির টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট ইয়ান ওয়েনরুই জানালেন, ‘সমুদ্রের পানি দিয়ে প্যাসিভ কুলিং ব্যবস্থার কারণে আমরা একই আকারের স্থলভিত্তিক ডেটা সেন্টারের চেয়ে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারছি। এই বিদ্যুৎ এক মাসে ১০ হাজারের বেশি পরিবার ব্যবহার করতে পারে।’
২০২০ সালে হাইনানকে বৈশ্বিক মানের ফ্রি ট্রেড পোর্টে রূপান্তরের মাস্টার প্ল্যান ঘোষণার পর ২০২১ সালে এই প্রকল্প অনুমোদন পায় এবং ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়।
ইয়ান ওয়েনরুই আরও বললেন, ‘পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আমরা অত্যন্ত সতর্ক। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ডেটা সেন্টারের দুই থেকে তিন মিটারের বাইরে পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। এই ডেটা সেন্টার কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ডেটা বিনিময়ে হাইনান বড় ভূমিকা রাখবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক ডেটা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এই ডেটা সেন্টার হাইনানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক হাবে পরিণত করবে।
সূত্র: সিএমজি