আমাদের ৫ বন্ধুর পরিকল্পনা ছিল রুমা বাজার থেকে বগা লেক হয়ে কেওক্রাডং পাহাড়! এরপর তাজিংডং পাহাড় পর্যন্ত ট্রেকিং করার!
কিন্তু পাহাড়ি জোঁক এবং
বিদ্রোহীদের অপহরণ আতঙ্কে ভ্রমণ পরিকল্পনার দুইদিন বাকি থাকতেই ঢাকায় ফিরে আসতে বাধ্য হই!
আমরা ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বান্দরবান নেমে জিপ রিজার্ভ করে রুমা বাজার পৌছাই! পরদিন ভোরে
রওনা হলাম! অসাধারণ প্রকৃতির কোলে কষ্টসাধ্য পায়ে হাঁটা! মোট ৪ ঘন্টার ট্রেকিংয়ে কিছুক্ষণ পরপরই পাহাড়ি ঝরনার শীতল পানিতে গোসলের যে কি প্রশান্তি! এটা পাহাড় ট্রেকিং না করলে কিছুই বুঝানো যাবেনা! বগালেক পৌছে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত হেলিপ্যাড ও আশেপাশের পাহাড়ে ঘোরাঘুরি!
বিকেলে ঝিরিপথ ও পাহাড় ট্রেকিং করে অনেক উঁচু একটি পাহাড়ের নীচে পৌছাই! ইতিমধ্যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে! মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে পাহাড় পাড়ি শুরু হলো! তখন হালকা ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টি শুরু হয়েছে! পাহাড়ী আকর্ষন দ্রুতই আতঙ্কে পরিনত হয়ে গেল! বৃষ্টি ও হাওয়া দুটোই বেড়ে গেল! পাহাড়ী ভয়াবহ অন্ধকারে খুবই সাবধানে উপরে উঠতে হচ্ছিল! এরই মধ্যে দুবার পা পিছলে পড়ে গেলাম! মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে নীচে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাই! জমাট বাঁধা অন্ধকার এবং ঝড়ো প্রকৃতির মধ্যেই তিন ঘন্টা পর পাহাড়ের উপরে পৌছালাম! পাহাড়ীদের তৈরি একটি কাঠের লম্বা বেঞ্চ দেখা গেল! ওখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়ার পর টর্চলাইট জালিয়ে জোঁক পরীক্ষা করতে গিয়ে চোখ ছানাবড়া! আমার দুই পায়ে ১০ টি জোঁক! অনেক ভয় পেলাম! সঙ্গী রাফা তখন জোঁকের উপর লবন পানি দিল! কিন্তু তাতে কিছুই হলনা! এরপর সবজি কাটার ধারালো ছুড়ি দিয়ে জোঁকগুলো থেকে মুক্তি পেলাম!
এরপর সামান্য এগিয়ে একটি পাড়ায় কার্বারির বাড়িতে উঠলাম! পরদিন সকালে ছোট একটি মাঠে ফুটবল খেলাও হয়ে গেল! মেঘের মধ্যে ফুটবল! দারুন অনূভুতি!
বাঁশের কোঁড়ল সবজি এবং পাহাড়ি মুরগীর গোস্ত দিয়ে চমৎকার ভূরিভোজের পর রওনা হলাম থাইকিয়াং পাড়ার পথে! গন্তব্য তাজিংডং পাহাড়!
তিন ঘন্টা পর পাড়ায় পৌছে গেলাম! যথারীতি পাড়া প্রধানের বাড়িতে রাত্রিযাপন! পরদিন সকালেই গাইড বলল মায়ানমারের একটি বিদ্রোহী দল সীমান্তের খুব কাছেই অবস্থান করছে! যে কোন সময় অপহরণের মত দূর্ঘটনা ঘটতে পারে! এরপর কোন ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত ঢাকায় ফিরে আসি!
চমৎকার পাহাড়ি সৌন্দর্য, জোকের আক্রমণ, মেঘের মধ্যে ফুটবল এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অপহরণ আতঙ্ক!! সব মিলিয়ে এটি
“সারাজীবন স্মরণীয়” একটি ভ্রমণ ছিল!
সৌজন্য : আরমান খান