বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তায় চীনের প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি মডেল

বদলাচ্ছে বিশ্বের আবহাওয়া, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। এমন পরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সামলে কীভাবে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তারই সমাধান খুঁজতে বেইজিংয়ে সম্প্রতি হয়ে গেল ‘ওয়ার্ল্ড এগ্রিফুট ইনোভেশন কনফারেন্স’। বিশ্বজুড়ে ৩০টিরও বেশি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অংশ নেয় অন্তত ৩০০ জন প্রতিনিধি।

কৃষিখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে চীন এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে অনুকরণীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই বৈপ্লবিক অগ্রগতি আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকাসহ পুরো বিশ্বের জন্যই উদাহরণ।

গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের নির্বাহী পরিচালক লরেন্স হ্যাড্যাড বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চীন যেভাবে রাজনৈতিক, কারিগরি ও রাজনৈতিক পর্যায়ে গুরুত্ব দিয়েছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। বিশ্বজুড়ে সব দেশের জন্যই এখান থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। ’

এ বিষয়ে জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের জলবায়ু ও খাদ্য পরিচালক, ‘লাসে ব্রুন জানান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে চীন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। এআই প্রযুক্তি থেকে শুরু করে ছোট কৃষকদের উপযোগী যন্ত্রপাতি তৈরিতে তারা এখন বড় ভূমিকা রাখছে। ’

সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য শুধু প্রযুক্তির বিকাশ নয় তা মাঠপর্যায়ের কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যাকইয়ার্ড মডেলটি এখন বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যেখানে গবেষকরা সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করেন।

চায়না কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থাং লিসিয়া বলেন, ‘আমরা আফ্রিকায় চীনা ভুট্টা চাষের প্রযুক্তি নিয়ে গিয়েছি, যা কোন অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। আর, সেখানকার কৃষকরা এটি দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন।’

চীন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ও গবেষণার যৌথ বিনিময় ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। খাত সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক এই সহযোগিতার মাধ্যমেই উন্মোচিত হবে টেকসই ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

সূত্র: সিএমজি বাংলা