শুভ আনোয়ার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও যুগান্তকারী বীজ প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে পূর্বের চেয়ে বেশি খাদ্য উৎপাদন করছে চীন। গত সোমবার দেশের কৃষিমন্ত্রী চাং চু এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, জমি, পানি এবং রাসায়নিক উপাদানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এখন কৃষির উৎপাদনশীলতার প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। আধুনিক কৃষির এই রূপান্তর বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চাং চু জানান, কৃষিখাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদানের হার বর্তমানে ৬৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, চীনের কৃষির প্রবৃদ্ধি এখন মূলত সম্পদনির্ভর প্রসারের পরিবর্তে প্রযুক্তির উদ্ভাবন দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, দেশটিতে উচ্চমানের কৃষিজমি তৈরি অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি পাহাড়ি ভূখণ্ডের উপযোগী আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি, এআই প্রযুক্তির প্রসার এবং প্রজনন প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ আরও ত্বরান্বিত করা হবে। কৃষি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন একটি শিল্প, অথচ এটি আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।”
একই সঙ্গে, ভবিষ্যৎ খাদ্যের জোগান বৈচিত্র্যময় করতে এবং মানসম্মত ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সুরক্ষিত কৃষি ব্যবস্থা, উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন এবং কাল্টিভেটেড বা পরীক্ষাগারে উৎপাদিত মাংসের বিকাশ ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চীন।
চীন ইতিমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম শাকসবজি ও ফল উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব উৎপাদিত মোট আপেলের প্রায় অর্ধেক, ৬০ শতাংশের বেশি তরমুজ ও পিচ, প্রায় ৭০ শতাংশ লিচু ও নাশপাতি এবং বিশ্বের প্রায় অর্ধেক চাষ করা মাছ উৎপাদন করে থাকে চীন।