জাপানকে ‘তিন পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত নীতি’ মেনে চলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাগিদ দেওয়া। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কুও চিয়াখুন আজ (বৃহস্পতিবার) বেইজিংয়ে নিয়মিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
কুও চিয়াখুন বলেন, জাপান পারমাণবিক অস্ত্র রাখবে কি না, বিষয়টি আলোচনার প্রশ্ন নয়। জাপান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির স্বাক্ষরকারী দেশ। চুক্তির আওতায় দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারে না। পারমাণবিক অস্ত্র গ্রহণ না করা, উৎপাদন না করা এবং নিজের ভূখণ্ডে না রাখার নীতি জাপানের ঘোষিত ‘তিন পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত নীতি’র মূল বিষয়।
তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে জাপানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ‘তিন পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত নীতি’র প্রতি জাপানের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করেন। মে মাসে অনুষ্ঠিত এনপিটি পর্যালোচনা সম্মেলনেও জাপানি প্রতিনিধিরা বারবার নিশ্চিত করেন যে, এ নীতির বিষয়ে জাপানের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। এসব বক্তব্য এখনও সবার স্মৃতিতে তাজা।
চীনা মুখপাত্র বলেন, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্তমান প্রধানের ‘পারমাণবিক অস্ত্র ও পারমাণবিক সাবমেরিন নিয়ে আলোচনায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই’—এ ধরনের বক্তব্য গুরুতর উসকানি। তার মতে, এটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার লঙ্ঘন। তিনি বলেন, এ বক্তব্য জাপানের ঘোষিত ‘তিন পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত নীতি’ থেকে গুরুতর বিচ্যুতি এবং জাপানের ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আবারও প্রকাশ করেছে।
কুও চিয়াখুন আরও বলেন, চলতি বছর টোকিও ট্রায়ালের ৮০তম বার্ষিকী। তার মতে, জাপানের ডানপন্থী শক্তিগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জ করে চলেছে এবং ভুল পথে আরও এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত জাপানকে ‘তিন পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত নীতি’ মেনে চলতে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির অধীনে তার বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে পালন করতে, পুনঃসামরিকীকরণ ও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রচেষ্টা পরিত্যাগ করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুতর উদ্বেগের প্রতি আন্তরিকভাবে সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানানো।
সূত্র: সিএমজি