গাছের শিকড় কেবল পুষ্টি সংগ্রহের জন্যই মাটির গভীরে যায় না, বরং তারা যে অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং নিজের সুরক্ষায় সক্ষম—তা নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। চীনের নর্থওয়েস্ট এ অ্যান্ড এফ ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন, উদ্ভিদ তার শিকড় ব্যবহার করে পচনশীল উদ্ভিদ বা ক্ষতিকারক প্যাথোজেনপূর্ণ এলাকা সক্রিয়ভাবে এড়িয়ে চলতে পারে।
উদ্ভিদের এই অনন্য প্রতিরক্ষা কৌশলটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
অধ্যাপক চাং ইউচৌয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, শিকড় যখন পচনশীল উদ্ভিদের সংস্পর্শে আসে, তখন তাদের বৃদ্ধি তাৎক্ষণিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে, ওই উদ্ভিদের জিনোম থেকে প্যাথোজেন প্রতিরোধী এবং রোগ প্রতিরোধ সংক্রান্ত জিনগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।
গবেষকরা তাদের পরীক্ষায় র্যাপসিড, টমেটো এবং গমের চারা ব্যবহার করে দেখেছেন, এই উদ্ভিদগুলো পচনশীল জৈব বস্তুর দিকে না বেড়ে বরং তার উল্টো দিকে শিকড় বাঁকিয়ে বেড়ে ওঠার প্রবণতা দেখায়। তবে মজার বিষয় হলো, গাছ শুধুমাত্র পচনশীল উদ্ভিদের ক্ষেত্রেই এই ‘পরিহারকারী’ আচরণ প্রদর্শন করে, পচনশীল প্রাণীদেহের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাটির নিচে থাকা ছত্রাক যখন উদ্ভিদজাত পদার্থ পচন ঘটায়, তখন তা অম্লীয় পরিবেশ তৈরি করে। এই অম্লীয় পরিবেশটি শিকড়ের জন্য একটি সতর্ক সংকেত বা গাইডলাইন হিসেবে কাজ করে। শিকড়ের এপিডার্মাল কোষগুলো এই অম্লত্ব শনাক্ত করতে পারে এবং শিকড়কে কম অম্লীয় বা নিরাপদ এলাকার দিকে পরিচালিত করে।
এই আবিষ্কারটি উদ্ভিদবিদ্যার প্রচলিত ধারণাগুলোকে আরও প্রসারিত করেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, শিকড়ের এই দিক-নির্ণয় ক্ষমতা বা ‘ট্রপিজম’ এর নতুন এই সংস্করণটি কৃষি বিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটাতে পারে। ভবিষ্যতে ফসলের সুরক্ষায় এবং রোগবালাই দমনে এই নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন তারা।
সূত্র: সিএমজি