বেইজিংয়ে ২২ থেকে ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হলো ‘চীন উন্নয়ন ফোরাম ২০২৬’-এর বার্ষিক সম্মেলন। এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার চীন: গুণগত উন্নয়ন ও নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি’। সম্মেলনে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিশনের কার্যালয় এবং জাতীয় জ্বালানি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি, টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
চীনের অর্থমন্ত্রী লান ফো আন
চীনের অর্থমন্ত্রী লান ফো আন জানান, আগামী পাঁচ বছরে সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াবে এবং সরকারি ব্যয়ের বড় একটি অংশ জনসেবায় বরাদ্দ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘চতুর্দশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা’ চলাকালে জনকল্যাণমূলক খাতে চীনের ব্যয় প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা মোট সরকারি ব্যয়ের ৭০ শতাংশেরও বেশি। এর ফলে বিশ্বে বৃহত্তম শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পান কুং শেং
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পান কুং শেং জানান, চীনের অর্থনৈতিক রূপান্তরে আর্থিক খাতের সহায়তা আরও জোরদার করা হবে। তিনি মধ্যপন্থী শিথিল মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। তার মতে, বর্তমানে চীনের সামাজিক অর্থায়ন পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শ্রেণিবিভাগ নিয়ম অনুযায়ী চীন পরিচালিত ভাসমান বিনিময় হার ব্যবস্থা অনুসরণ করে। এ বছরের প্রথম তিন মাসে চীনের মুদ্রা রেনমিনবি ডলারের বিপরীতে প্রায় ১.৩ শতাংশ, ইউরোর বিপরীতে ৩.৭ শতাংশ, জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ৩.২ শতাংশ এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাত্, বিনিময় হার অবমূল্যায়নের মাধ্যমে বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের কোনো প্রয়োজন বা ইচ্ছা নেই চীনের।
সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি কার্যালয়ের পরিচালক হান ওয়েন সিউ
সম্মেলনে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিশনের কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক এবং কৃষি কার্যালয়ের পরিচালক হান ওয়েন সিউ জানান, “পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা” এমন একটি পরিকল্পনা যা সম্পূর্ণভাবে নতুন উন্নয়ন ধারণা বাস্তবায়ন করবে, গুণগত উন্নয়নকে কেন্দ্রে রাখবে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন সুযোগ সৃষ্টি ও ভাগাভাগি করবে। তিনি বলেন, “পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা” উদ্ভাবনী উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দেয়, অর্থনীতির প্রাণশক্তিকে সক্রিয় করবে। এতে আধুনিক শিল্পব্যবস্থা গঠন এবং উচ্চমানের আত্মনির্ভরশীল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনকে দুটি প্রধান কৌশলগত কাজ হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় জ্বালানি প্রশাসনের উপ-পরিচালক ওয়ান জিন সুং
সম্মেলনে জাতীয় জ্বালানি প্রশাসনের উপ-পরিচালক ওয়ান জিন সুং জানান, “পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা” চলাকালে চীন জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বায়ুশক্তি, সৌরশক্তি, পারমাণবিক শক্তি, জৈব শক্তিসহ বিভিন্ন ধরনের পরিচ্ছন্ন শক্তির উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া হবে। ফলে বহুমুখী শক্তির পরিপূরকতা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম একটি নতুন শক্তি-ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের আধুনিকায়নে ডিজিটাল বিপ্লবের সমন্বয় ঘটানো হবে।
(শিশির/তৌহিদ/আনন্দী)