চীন-বাহরাইন সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে: বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ওয়াং ই

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার কৌশলগত নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২৪ সালে চীন ও বাহরাইন সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বিনির্মাণবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) ফাঁকে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুললতিফ বিন রশিদ আল জায়ানির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

বৈঠকে ওয়াং ই আরও বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও সমর্থনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক আস্থা বাড়ানো, বাস্তব সহযোগিতা আরও গভীর করা, জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়াতে বাহরাইনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী চীন।

আল জায়ানি বলেন, চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি, পর্যটন, অর্থায়ন ও সরবরাহব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী তার দেশ। এর মধ্য দিয়ে বাহরাইন-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে দুই পক্ষ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করে। ওয়াং ই বলেন, চীন সব সময় মনে করে, সংঘাত বা যুদ্ধ ছড়াতে দেওয়া উচিত নয়। সংঘাত কমানোর সঠিক পথ হলো আলোচনা। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রস্তাবিত ধারাবাহিক উদ্যোগের ভিত্তিতে বাহরাইনসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চায় চীন।

আল জায়ানি বলেন, বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বেশ সংকটপূর্ণ। বাহরাইন প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রস্তাবিত চীনা উদ্যোগ ও সমাধানগুলোকে স্বাগত জানায়। তার মতে, এসব গুরুত্বপূর্ণ ধারণা এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত উপকারী। ন্যায় ও সুবিচারের প্রতি চীনের অবিচল অবস্থান, আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত বন্ধে চীনের ইতিবাচক প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।

সূত্র: সিএমজি