মে ১৫: বৃহস্পতিবার চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা “চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গঠনমূলক কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক” নামক একটি নতুন অবস্থান গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন, যা আগামী তিন বছর এবং তার পরেও চীন-মার্কিন সম্পর্কের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা বলেছেন যে, উভয় পক্ষের এই নতুন অবস্থান গ্রহণ কেবল উত্তাল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা আনছে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তিও প্রদান করছে।
প্লেখানভ রাশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ ইকোনমিকস-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই কোশকিন বলেন: “চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যবস্থার দুটি স্তম্ভ, এবং দুই নেতার এই বৈঠক থেকে বিশ্বের সব দেশ উপকৃত হবে। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের চীন-মার্কিন সম্পর্ককে ‘একটি বড় জাহাজ’-এর সাথে তুলনা করা খুবই যথার্থ। দুই নেতা, কর্ণধারের ভূমিকায়, এই উত্তাল সমুদ্রে জাহাজটির ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে, দুই নেতার এই বৈঠক বিশ্বকে অস্থিতিশীলতার ঘূর্ণিপাক থেকে বেরিয়ে আসতে এবং ভূ-রাজনৈতিক বিরোধ নিরসনে সহায়তা করবে। অবশ্যই, আমরা জানি যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য ও বিরোধ বিদ্যমান, কিন্তু যতক্ষণ উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছানোর সদিচ্ছা বজায় রাখবে, ততক্ষণ সাফল্য অনিবার্য।”
থাইল্যান্ডের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী ফিনিসুকা বলেন, “প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গঠনমূলক কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক’ গড়ে তোলার প্রস্তাবটিই বিশ্ব দেখতে চায়। এর অর্থ হলো, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা জোরদার করতে, অংশীদার হতে এবং যৌথ সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। চীন-মার্কিন সম্পর্ক বিষয়ে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের এই নতুন অবস্থান বিশ্বকে শান্তি, সহযোগিতা এবং স্থিতিশীলতার দিকে পরিচালিত করবে। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্ব এই নতুন ঐতিহাসিক মুহূর্তটি মনে রাখবে।”
আফ্রিকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক অধ্যয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক স্যান্ডার কালু বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের এই বক্তব্যের সাথে একমত যে, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গঠনমূলক কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং এটি একটি সমন্বিত পদক্ষেপ হওয়া উচিত।’ চীন-মার্কিন সম্পর্ক আজকের বিশ্বে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব, এবং আমাদের এই দুটি দেশকে একসাথে কাজ করতে হবে।”
সান ডিয়েগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি স্কুলের এশীয় বিষয়ক পরিচালক মার্সেলো ভেরা বলেন, “চীনা ও মার্কিন নেতাদের মধ্যকার বৈঠকটি একটি বিশ্বব্যাপী প্রভাব সৃষ্টিকারী ঘটনা। ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গঠনমূলক কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক’ গড়ে তোলার লক্ষ্য শুধু বর্তমান পরিস্থিতিই নয়, বরং বিশ্বের ভবিষ্যৎও। এই বৈঠকটি শুধু অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখাই দেবে না, বরং নিরাপত্তার ভবিষ্যৎও চিত্রিত করবে। এতে অদূর ভবিষ্যতে আমরা যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দেখতে পাব, তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমরা মনে করি, এই বৈঠকটি বিশ্ব শান্তির রূপকল্পের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করবে।”
সৌদি আরবের মূলধারার গণমাধ্যম ‘আল-রিয়াদ’ “চীনা ও মার্কিন নেতারা অংশীদারিত্বের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন” শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের “প্রতিপক্ষ নয়, অংশীদার হওয়া উচিত” এবং উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সহযোগিতাই একমাত্র সঠিক পথ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মূলধারার গণমাধ্যম ‘আল-ইত্তিহাদ’-এর একটি ভাষ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সামলানো এবং সংঘাত প্রতিরোধ করা উভয় দেশ ও আন্তর্জাতিক সমাজের সাধারণ স্বার্থের অনুকূল।
ব্রাজিলের মূলধারার গণমাধ্যম ওয়েবসাইট ‘২৪৭’ জানিয়েছে যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি শুধু উভয় দেশের জন্যই নয়, বরং বিশ্বের জন্যও মঙ্গলজনক হবে। ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতার এই সময়ে এটি বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
(স্বর্ণা/তৌহিদ/লিলি)
14日,中美两国元首就构建“中美建设性战略稳定关系”新定位达成共识,为未来三年乃至更长时间的中美关系提供战略指引。国际人士表示,中美双方将构建“中美建设性战略稳定关系”作为中美关系新定位,不仅为动荡交织的国际形势注入了稳定性,更为全球经济繁荣提供了坚实支撑。
普列汉诺夫经济大学政治和社会学系主任安德烈·科什金:中美是支撑世界格局的两大支柱,全球各国都将从中美元首会谈中受益。习主席将中美关系比喻为“一艘大船”,这非常贴切。两国元首作为掌舵人,决定了这艘大船在波涛汹涌的大海中的命运。当前地缘政治博弈持续升温,中美元首会谈将有助于世界摆脱动荡不安的漩涡,缓和地缘政治纷争。当然我们知道中美之间仍存在分歧和矛盾,但只要双方秉持寻求共识的意愿,就必然会带来成功。
泰国前副总理披尼 :习近平主席提出构建“中美建设性战略稳定关系”,这是世界人民期待看到的。即中国与美国能够加强合作,成为伙伴,共同繁荣。习近平主席提出的中美关系新定位,将世界引向安宁、合作与和平。我认为世界必将铭记这一新的历史性时刻。
非洲国际贸易与商业研究中心执行主任 桑德·卡卢:我赞同习近平主席提出的“‘中美建设性战略稳定关系’不是一句口号,而应该是相向而行的行动”。中美关系是当今世界最需要的,也是最重要的合作伙伴关系,我们需要这两个国家携手合作。
圣地亚哥大学经济学院亚洲事务主任玛塞拉·维拉:中美元首会谈是一件具有全球影响力的事件,构建“中美建设性战略稳定关系”不仅针对当前局势,更是面向世界的未来。此次会谈不仅将勾勒出经济的未来,也将描绘安全领域的未来。当然还包括我们将在不久后看到的科技发展走向,我们看到这次会谈正在为世界和平愿景构建坚实基础。
沙特主流媒体《利雅得报》以《中美元首重申伙伴关系重要性》为题,详细报道了习近平主席关于中美“应该成为伙伴而不是对手”的重要论述,强调合作共赢是双方唯一正确的选择。
阿联酋主流媒体《联邦报》的评论文章指出,中美双方通过对话管控分歧、防止对抗,符合两国及国际社会的共同利益。
巴西主流媒体247网站表示,中美加强合作不但有利于两国,也将造福世界。在战争、地缘政治紧张和国际不稳定局势加剧的当下,这对全世界来说是一个重要信号。