নতুন প্রোটন-সদৃশ কণার সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কণা ত্বরণযন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কলাইডর (এলএইচসি)-এ পরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নতুন একটি ভারী, প্রোটন-সদৃশ কণার সন্ধান পেয়েছেন। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন চীনা বিজ্ঞান একাডেমির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হ্য চিবো। গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে সার্ন-এ।

নতুন কণাটি প্রোটনের মতো হলেও এর ভর প্রায় চারগুণ বেশি। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জটিল আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

আমাদের চারপাশের সব বস্তু মূলত ব্যারিয়ন শ্রেণির কণা দিয়ে গঠিত, এই কণা মূলত তিন ধরনের কোয়ার্কের সমন্বয়ে তৈরি। কোয়ার্কের ছয়টি ধরন রয়েছে—আপ, ডাউন, চার্ম, স্ট্রেঞ্জ, টপ ও বটম। নতুন আবিষ্কৃত কণাটিতে রয়েছে দুটি চার্ম কোয়ার্ক এবং একটি ডাউন কোয়ার্ক, যেখানে সাধারণ প্রোটনে থাকে দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক। চার্ম কোয়ার্কের উপস্থিতির কারণেই এই কণার ভর বেশি।

এলএইচসি-এর মুখপাত্র ভিনসেনজো ভাগনোনি জানান, দ্বিতীয়বারের মতো এমন ব্যারিয়ন দেখা গেল যাতে দুটি ভারী কোয়ার্ক রয়েছে। ২০২৩ সালে এলএইচসিবি ডিটেক্টরের উন্নয়নের পর এটিই প্রথম নতুন শনাক্ত হওয়া কণা।

এর আগে ২০১৭ সালে কাছাকাছি একটি কণা শনাক্ত করা হয়েছিল। নতুন কণাটির আয়ু আগেরটার চেয়ে ছয়গুণ কম। তাই এটি শনাক্ত করা ছিল আরও কঠিন।

২৭ কিলোমিটার লম্বা এই লার্জ হ্যাড্রন কলাইডর ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের নিচে প্রায় ১০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। এখানেই ২০১২ সালে বিখ্যাত হিগস বোসন বা বস্তুর ভর প্রদানকারী কণার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়।

চীনা গবেষকের নেতৃত্বে নতুন এই আবিষ্কার শক্তিশালী পারমাণবিক বল (স্ট্রং ইন্টার‌্যাকশন) এবং কোয়ার্ক মডেল সম্পর্কে আরও গভীর অন্তদৃষ্টি দেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: সিএমজি

chinascience