ইয়াং ওয়েইমিং স্বর্ণা
আজ (শুক্রবার) হাইনান বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ‘লং মার্চ ১০বি’ উৎক্ষেপণ যান মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। এটি সফলভাবে স্যাটেলাইটকে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে এবং এর প্রথম স্তরটি সফলভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে পুরো মহাকাশ অভিযানটি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।
এই অভিযানটি ছিল চীনের ইতিহাসে প্রথম কোনো উৎক্ষেপণ যানের প্রথম স্তরের নিয়ন্ত্রিত পুনরুদ্ধার। একই সাথে, বিশ্বের বুকেও প্রথমবারের মতো সামুদ্রিক জাল ব্যবস্থার মাধ্যমে রকেট পুনরুদ্ধারের ঘটনা এটি।
‘লং মার্চ ১০বি’ হলো একটি পুনঃব্যবহারযোগ্য তরল-জ্বালানি নির্ভর বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ যান। এটি চায়না এরোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশনের অধীনস্থ ‘চায়না রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ লঞ্চ ভেহিকল টেকনোলজি’-এর প্রধান নকশা ও তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে। রকেটটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৩ মিটার, ব্যাস ৫ মিটার, উড্ডয়ন থ্রাস্ট প্রায় ৮৯০ টন এবং উড্ডয়ন ওজন প্রায় ৭৬০ টন। পুনঃব্যবহারযোগ্য অবস্থায় নিম্ন-কক্ষপথে এর বহনক্ষমতা ১৬ টন।
মহাকাশ উৎক্ষেপণ দীর্ঘদিন ধরে একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তাই পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গঠন, গভীর মহাকাশ অনুসন্ধান, মানববাহী চন্দ্রাভিযান ইত্যাদি কাজে আরও সাশ্রয়ী সমাধান দেবে এবং মহাকাশে চীনের প্রবেশ সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে।
চায়না এরোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা চেন মুইয়ে বলেন, “লং মার্চ ১০বি প্রধানত চীনের বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ বাজারকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। এর বহনক্ষমতা বেশি এবং কার্যসম্পাদনের পরিসরও বেশ বিস্তৃত।” তিনি আরও জানান, এই রকেটটি নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নক্ষত্রমণ্ডল স্থাপন এবং বৃহৎ বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণসহ বিভিন্ন ধরনের কাজের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। পুনঃব্যবহারযোগ্য হওয়ায় এর উৎক্ষেপণ ব্যয় অনেকাংশে কমে যাবে।
‘লং মার্চ ১০বি’ উড্ডয়নের পর, এর প্রথম স্তরটি ত্বরান্বিত উড্ডয়ন সম্পন্ন করে দ্বিতীয় স্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং এরপর “প্রত্যাবর্তন যাত্রা” শুরু করে। এ পর্যায়ে রকেটটি জিমন্যাস্টদের শূন্যে ভেসে থাকার ভঙ্গির মতো কৌশলগতভাবে দিক পরিবর্তন করে। এরপর ইঞ্জিন পুনরায় চালু করে এবং বায়ুগত প্রতিরোধের মাধ্যমে এর গতি কমানো হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে রকেটটি নির্ভুলভাবে অবতরণ করে, যেখানে বিশ্বের প্রথম (জিং বা হ্যাশ) আকৃতির উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন বাফারিং জাল প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করে রকেটটিকে নিরাপদে আটকে ফেলা হয়।
বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে পুনরুদ্ধার পর্যন্ত, প্রথম স্তরটি মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যে এই শ্বাসরুদ্ধকর “আকাশী জিমন্যাস্টিকস” সম্পন্ন করে। এর মাধ্যমে রকেটের “নিয়ন্ত্রিত গতিবিধি”, “নির্ভুল প্রত্যাবর্তন”, “স্থিতিশীল অবতরণ” এবং “নিরাপদ গ্রহণ” নিশ্চিত করা হয়।
বর্তমানে বিশ্বে রকেট পুনরুদ্ধারের প্রধান পদ্ধতি হলো উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ, যেখানে রকেট “পায়ে” ভর করে দাঁড়ায়। কিন্তু ‘লং মার্চ ১০বি’ সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। এই রকেটটি সরাসরি সমুদ্রে স্থাপিত একটি বৃহৎ জালের মধ্যে উড়ে এসে অত্যন্ত মৃদুভাবে অবতরণ করে বা জালের “আলিঙ্গনে” আবদ্ধ হয়।
কর্মকর্তা চেন মুইয়ে বলেন, “জাল ব্যবস্থায় রকেট পুনরুদ্ধার এর কাঠামো সরলীকরণ, ওজন হ্রাস এবং বহনক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া অবতরণ বিন্দুর বিচ্যুতির সাথে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতাও এর বেশি, কারণ জাল ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে রকেট ‘গ্রহণের পরিধি’ বাড়ানো সম্ভব।”
সিএমজি বাংলা