বেইজিংয়ে জাতিসংঘের ৮১তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন

বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার রক্ষায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বেইজিংয়ে পালিত হলো জাতিসংঘের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বিশ্বজুড়ে ২৪ অক্টোবর ‘জাতিসংঘ দিবস’ হিসেবে পালিত হলেও বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের জাতিসংঘ প্রাঙ্গণে এক বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘের সনদ কার্যকর হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে চীন সরকার, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র ও সংস্থা, একাডেমিয়া, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার অগ্রযাত্রায় আমাদের একসঙ্গে কাজ করার ক্ষমতার ওপর।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব বর্তমানে সংঘাত, জলবায়ু সংকট, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং দ্রুত পরিবর্তিত প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিভাজনের পরিবর্তে সংলাপ, সংঘাতের বদলে সহযোগিতা এবং ভীতি দূর করে সংহতি বজায় রাখার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ছাই ওয়েই বলেন, চীন শুরু থেকেই জাতিসংঘের একজন দৃঢ় সমর্থক।

এ বছর চীনের ‘বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ’ (জিডিআই)-এর পঞ্চম বার্ষিকী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিডিআই-এর মাধ্যমে চীন জাতিসংঘের উন্নয়ন ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করবে এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের নতুন গতি আনবে।’

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এই উদ্যোগের প্রস্তাব করেছিলেন।

চীনে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী স্টিফেন জ্যাকসন সিএমজিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘চীন বিশ্বমঞ্চে সার্বভৌম সমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম শক্ত সমর্থক। বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের অভিন্ন লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও চীনের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া প্রয়োজন।’

সূত্র: সিএমজি