১ অক্টোবর থেকে টানা এক সপ্তাহ ধরে চলছে চীনের জাতীয় দিবসের ছুটি। এ সময় চীনে পর্যটকের আগমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আগের চেয়ে আরও বেশি বিদেশি পর্যটক একটি উন্মুক্ত ও প্রাণবন্ত দেশের সাংস্কৃতিক ও পর্যটন আকর্ষণ এবং উন্নয়নের প্রাণশক্তি অনুভব করতে চীনে আসছেন।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ২ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশেরও বেশি। তাদের মধ্যে ভিসামুক্ত পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্বব্যাপী সিজিটিএন পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৯২ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনা পর্যটন-সম্পর্কিত বিষয়বস্তু চীন সম্পর্কে জানা এবং দেশটিতে ভ্রমণের প্রতি তাদের আগ্রহ ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলছে। ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরাসরি চীনে ভ্রমণ করলে চীনের সংস্কৃতি, সমাজ ও উন্নয়ন সম্পর্কে আরও ব্যাপক ও বাস্তবসম্মত ধারণা পাওয়া সম্ভব।
জাতীয় দিবসের ছুটিতে পর্যটকের আগমনে এই উল্লম্ফন আকস্মিক ঘটনা নয়। বরং চীনের উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণ এবং চীন ও অন্যান্য দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ক্রমাগত সহজতর হওয়ারই একটি স্বাভাবিক ফল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ভিসা ও শুল্ক ছাড়পত্রের নীতি ক্রমাগত উন্নত করেছে। ২৪০ ঘণ্টার ভিসামুক্ত ট্রানজিট নীতি ৫৭টি দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং হাইনান প্রদেশে ৩০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ নীতি ৬১টি দেশের নাগরিকদের জন্য চালু করা হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিদেশিদের ভিসামুক্ত প্রবেশের সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ১৫ হাজারে পৌঁছেছে, যা মোট বিদেশি পর্যটকের ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ৯১ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, চীনের ভিসা ও শুল্ক ছাড়পত্র সহজীকরণ ব্যবস্থার ক্রমাগত উন্নতি বিদেশি পর্যটকদের চীনে ভ্রমণের আগ্রহ কার্যকরভাবে বাড়িয়েছে। ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, চীন উন্মুক্ত মনোভাব নিয়ে বিশ্বের সঙ্গে উন্নয়নের সুফল ভাগ করে নিচ্ছে।
বিদেশি পর্যটকরা যখন ব্যক্তিগতভাবে চীনের দ্রুতগতির রেলপথ, মোবাইল পেমেন্ট ও স্মার্ট পর্যটনের অভিজ্ঞতা লাভ করছেন, তখন ‘চায়না ট্রাভেল’ আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নীরবে একটি আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বিদেশি পর্যটকদের আবারও চীনে আসতে উৎসাহিত করার কারণ শুধু চীনের মহাপ্রাচীর ও নিষিদ্ধ নগরের মতো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান নয়; বরং সহজলভ্য আধুনিক জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতাও এর অন্যতম কারণ। শুধু একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই দেশজুড়ে ভ্রমণের সুবিধা, দ্রুতগতির রেলসহ নানা আধুনিক সেবা চীন সম্পর্কে বিশ্বের ধারণাকে নতুন করে গড়ে তুলছে।
উল্লেখ্য, চীনে ‘প্রযুক্তি পর্যটন’ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিছু বিদেশি পর্যটক নিজেদের পছন্দমতো ভ্রমণসূচি তৈরি করতে হাজার হাজার ডলার খরচ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে নতুন জ্বালানিচালিত যানবাহনের স্মার্ট কারখানা পরিদর্শন, স্বচালিত গাড়িতে চড়ার অভিজ্ঞতা নেওয়া এবং রকেট উৎক্ষেপণ দেখা।
অভ্যন্তরীণ পর্যটনও একটি দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ জানালা। ছুটির দিনে সীমান্ত পারাপারের ভিড়ের আড়ালে থাকে তথ্য, পুঁজি এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ—আস্থার প্রবাহ। বিদেশি পর্যটকরা তাদের পদচারণার মাধ্যমে যেন ভোট দিচ্ছেন। এতে শুধু চীনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের মুগ্ধতাই প্রকাশ পাচ্ছে না, বরং চীনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতিও তাদের আস্থার প্রতিফলন ঘটছে।
সিজিটিএনের জরিপে ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা চীনের দ্রুতগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করেছেন এবং ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, চীনের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে পারে। ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা চীনে ভ্রমণ, পরিদর্শন বা পড়াশোনা করার বিষয়ে সুস্পষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অভ্যন্তরীণ পর্যটনের এই অব্যাহত বৃদ্ধি চীনা অর্থনীতির উন্নয়ন ও প্রাণশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
সূত্র: সিএমজি