ফয়সল আবদুল্লাহ
চীনে উদ্ভাবিত নতুন প্রজন্মের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কার্বন ফাইবার পরীক্ষাগার থেকে বেরিয়ে এবার শিল্প পর্যায়ে ব্যাপক উৎপাদনে প্রবেশ করেছে। দেশটির উন্নত উপকরণ প্রযুক্তি খাতে এটাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিনোপেক শাংহাই পেট্রোকেমিক্যালের তৈরি টি-১০০০ গ্রেডের ১২কে স্মল-টো কার্বন ফাইবার এখন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। এই নতুন উপাদান মহাকাশ, নিম্ন-আকাশ অর্থনীতি এবং মানবসদৃশ রোবটসহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
প্রতিটি কার্বন ফাইবার বান্ডেলে ১২ হাজার অতি সূক্ষ্ম ফিলামেন্ট থাকে। প্রতিটি ফিলামেন্টের ব্যাস পাঁচ মাইক্রোমিটারেরও কম, যা মানুষের চুলের পুরুত্বের প্রায় এক-দশমাংশ। সূক্ষ্ম হলেও এর টেনসাইল শক্তি ৬.৫ গিগাপাস্কালের বেশি, যা প্রায় ১০ টন ওজনের একটি ট্রাক টানতে সক্ষম।
ইস্পাতের তুলনায় এর ঘনত্ব এক-চতুর্থাংশেরও কম, কিন্তু শক্তি সাত থেকে নয় গুণ বেশি। একই সঙ্গে এটি ক্ষয়রোধী ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় মহাকাশ প্রযুক্তি, ড্রোন, ইভিটিওএল উড়োজাহাজ এবং উন্নত রোবট নির্মাণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সিনোপেক শাংহাই পেট্রোকেমিক্যাল জানিয়েছে, প্রায় দুই দশকের গবেষণার ফল হিসেবে এই কার্বন ফাইবার তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ‘ওয়েট-স্পিনিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ফাইবারের পৃষ্ঠে বিশেষ খাঁজ তৈরি করে এবং কম্পোজিট উপাদানে রজনের সঙ্গে সংযোগ আরও শক্তিশালী করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ, উপগ্রহ, ড্রোন ও ভবিষ্যতের বিভিন্ন হালকা কিন্তু শক্তিশালী কাঠামো তৈরিতে এই উপাদানের ব্যাপক ব্যবহার হবে। একটি বড় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ নির্মাণে ৮ থেকে ১০ টন পর্যন্ত কার্বন ফাইবার প্রয়োজন হতে পারে।
সিনোপেকের কর্মকর্তারা জানান, এই কার্বন ফাইবারের সম্পূর্ণ মেধাস্বত্ব চীনের নিজস্ব এবং বাজারে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তুত রয়েছে।
সিএমজি