চীনের শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতা বৈশ্বিক চাহিদার কার্যকর সমাধান

ইউরোপজুড়ে যখন রেকর্ড তাপপ্রবাহে মানুষ বিপর্যস্ত, তখন চীনে তৈরি এয়ার কন্ডিশনার এবং সাশ্রয়ী শীতলীকরণ সমাধানগুলো ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন পণ্যে পরিণত হয়েছে। এটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, চীনের শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতা কোনোভাবেই ‘অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা’ নয়; বরং এটি বাস্তব বিশ্বের চাহিদার একটি কার্যকর সমাধান।

সম্প্রতি ইউরোপের কিছু রাজনীতিক চীনের কথিত ‘ভর্তুকি-নির্ভর অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা’কে লক্ষ্য করে নতুন বাণিজ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। কিন্তু বাস্তব বাজারে দেখা যাচ্ছে, ভোক্তারা সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য এবং সহজলভ্য হওয়ায় চীনা পণ্য কেনার জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। অর্থাৎ, তারা নিজেদের অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে পছন্দের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিচ্ছেন।

এখানে শিক্ষণীয় বিষয়টি খুবই সহজ। যে উৎপাদন বাস্তব চাহিদার জবাব দেয়, তাকে ‘অতিরিক্ত’ বলা যায় না; বরং সেটিই মূল্যবান উৎপাদন।

এ ঘটনাই ‘চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা’ তত্ত্বের দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নির্ধারণ করা উচিত উৎপাদন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি অপর্যাপ্ত ব্যবহার, অতিরিক্ত মজুত, দুর্বল মুনাফা এবং বাজারে চাহিদার অভাবের ভিত্তিতে; কোনো দেশের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় তা রপ্তানি হচ্ছে—এটিকে অতিরিক্ত উৎপাদনের প্রমাণ বলা যায় না।

‘চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা’ নিয়ে প্রচারণা মূলত পশ্চিমা বিশ্বের নিজস্ব শিল্প প্রতিযোগিতা দুর্বল হয়ে পড়া, জ্বালানি রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ এবং অযৌক্তিক ভূরাজনৈতিক অবিশ্বাস থেকে সৃষ্ট অতিরঞ্জিত উদ্বেগের প্রতিফলন।

সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ নীতি শুরুর সময় চীন ইউরোপের বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তিকে সাদরে গ্রহণ করেছিল এবং সেগুলো চীনের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আজ ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের জন্য আরও বিচক্ষণ পদক্ষেপ হবে চীনা এয়ার কন্ডিশনার নির্মাতাদের ইউরোপে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি নিয়ে আসতে উৎসাহিত করা। ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদন এবং যৌথ প্রযুক্তি গবেষণা ও উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এ ধরনের সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে এবং তাপপ্রবাহে কষ্টে থাকা ইউরোপীয়দের জন্যও স্বস্তি বয়ে আনবে।

সূত্র: সিএমজি