মার্চ ২০, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের সাউথওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা অরিয়েন্টাল ফ্রুট ফ্লাইয়ের ডিম পাড়ার কিছু আচরণ নিয়ে এক সফল গবেষণা করেছেন। এ আবিষ্কারের ফলে আমের মারাত্মক ক্ষতি করা মাছিটিকে প্রতিরোধে আরও কার্যকর কীটনাশক কৌশল তৈরির পথ খুলতে পারে।
পোকাটি সাধারণত আম যখন পাকা শুরু করে তখনই ফলের ভেতরে ডিম পাড়ে। এতে ফল আগেভাগেই ঝরে পড়ে এবং কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়।
বিজ্ঞানী ওয়াং চিনচুনের নেতৃত্বাধীন গবেষক দলটি হেসপেরিডিন নামের একটি রাসায়নিক যৌগকে এই সমস্যার মূল চাবিকাঠি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স-এ।
গবেষণায় দেখা গেছে, আম পরিপক্ব হওয়ার সাথে সাথে এর ভেতরে হেসপেরিডিন-এর পরিমাণ বাড়ে। উচ্চ ঘনত্বে যৌগটি ফলমাছির ডিম ও লার্ভার জন্য বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এতে ডিম ফোটার হার কমে যায়, লার্ভার বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক পোকা বের হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।
স্ত্রী ফলমাছি ঝুঁকি এড়াতে ফলের উপরিভাগের স্বাদ পরখ করে। তারা ওভিপজিটর নামের একটি নলাকার অঙ্গ ব্যবহার করে ফল ভেদ করে রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত করে। গবেষকরা এই অঙ্গের ডগায় হেসপেরিডিন-এর সংকেত শনাক্ত করেছেন, যা প্রমাণ করে এতে বিশেষ সেন্সর রয়েছে।
তাদের এ আবিষ্কার নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রিত ও লক্ষ্যভিত্তিক পেস্ট কন্ট্রোল কৌশল উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করেছে।
ফয়সল/জেনিফার