মার্চ ১২, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির প্রান্তে ঘটে যাওয়া এক মহাজাগতিক সংঘর্ষের ছবি ধারণ করেছেন। নতুন নক্ষত্রের জন্ম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছে এই আবিষ্কার। এ গবেষণার ফলাফল বৃহস্পতিবার ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
চীনের ওয়েস্ট নরমাল ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞান স্কুলের গবেষকেরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে মিল্কিওয়ের প্রান্তে সদ্য জন্ম নেওয়া দুটি নক্ষত্রগুচ্ছ খুঁজে পেয়েছেন। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের বিখ্যাত অমেই পর্বতের নামে তারা এগুলোর নাম দিয়েছেন অমেই-১ এবং অমেই-২।
মহাজাগতিক সময়ের হিসাবে এই নক্ষত্রগুচ্ছগুলো তরুণ। গবেষকদের মতে, এগুলোর বয়স প্রায় ১ কোটি বছর। এগুলো তৈরি হয়েছে উচ্চ-গতির গ্যাসীয় মেঘের ভেতরে।
এই মেঘগুলো গ্যালাক্সির বাইরের অঞ্চল থেকে আসে এবং দ্রুত মিল্কিওয়ের বাইরের অংশে ঢুকে পড়ে। বহু দশক ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এসব গ্যাসীয় মেঘে কেবল গ্যাসই দেখেছিলেন, নক্ষত্রের চিহ্ন পাননি। তাই অনেকেই মনে করতেন, এই পরিবেশে নক্ষত্র জন্মানো সম্ভব নয়।
কিন্তু চীনের নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এমন একটি দ্রুতগতির গ্যাসীয় মেঘ গ্যালাক্সির চাকতির বাইরের প্রান্তে আঘাত করলে প্রবল সংঘর্ষ ঘটে। এতে গ্যাস অত্যন্ত চাপে সংকুচিত হয় এবং সেখান থেকেই নতুন নক্ষত্রের জন্ম শুরু হয়।
গবেষণাটি প্রথমবারের মতো পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছে যে উচ্চগতির গ্যাসীয় মেঘের মধ্যেও নক্ষত্র তৈরি হতে পারে।
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি কীভাবে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে সে বিষয়েও নতুন ধারণা দিয়েছে এই আবিষ্কার। আগে মনে করা হতো গ্যালাক্সিটি অনেকটা একটি ক্লোজড-সিস্টেম বা বন্ধ-ব্যবস্থা। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এটি আশপাশ থেকেও নিয়মিত নতুন গ্যাসীয় উপকরণ টেনে নিচ্ছে।
ফয়সল/লুৎফর
সূত্র: সিএমজি