সাকিব সিকান্দার: চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে ১১তম চীন সামরিক বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শনী। বৃহস্পতিবার চীনের জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া এ আয়োজনে সামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অত্যাধুনিক উদ্ভাবন তুলে ধরা হয়েছে।
তিন দিনের এ প্রদর্শনীতে সামরিক বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রযুক্তির উন্নয়নের প্রবণতা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সঙ্গে শিল্প উদ্ভাবনের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এবারের প্রদর্শনী ৫০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ৫৫০টির বেশি প্রদর্শক তিন হাজারেরও বেশি বিজ্ঞান-প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে।
দর্শনার্থীরা শুধু সামরিক বুদ্ধিমান প্রযুক্তির মূল সরঞ্জামই দেখছেন না, বরং এর উন্নয়নের অত্যাধুনিক গতি-প্রকৃতিও সরাসরি অনুভব করতে পারছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক সরঞ্জামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে।
সেখানে ছোট আকারের একটি এআই-ভিত্তিক যন্ত্র দেখানো হয়েছে। এটি ডেটাবেজে থাকা বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম শনাক্ত, রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি এবং নির্দেশনা দেওয়ার মতো বুদ্ধিমান কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এর ফলে যুদ্ধ প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া কুও লানসিয়া বলেন, ‘এটি ব্যবহার করা খুবই সহজ। শুধু চালু করলেই হলো। মাঠ পর্যায়ে নেটওয়ার্ক সংযোগ না থাকলেও কোনো সমস্যা হলে প্রশ্ন করলেই এটি সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা, পরিস্থিতি ও ভিডিও সরবরাহ করবে। সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে দেবে।’
প্রদর্শনীতে এআই ও বৃহৎ মডেল, মানববিহীন ব্যবস্থা ও ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি, সামরিক কম্পিউটার ও বহনযোগ্য ডিভাইসসহ ১০টি বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনী অঞ্চল রয়েছে। এগুলো সামরিক প্রযুক্তি শিল্পের গতিশীল অগ্রগতি ও উদ্ভাবনী শক্তিকে তুলে ধরছে।
প্রদর্শনীতে আসা এক অত্যাধুনিক ফ্লাইট সিমুলেটরও ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এর সম্পর্কে তুয়ান খাই বলেন, ‘আমাদের ফ্লাইট সিমুলেটর বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিশেষভাবে এর উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এটি প্রশিক্ষণের সময় পাইলটদের যুদ্ধ সক্ষমতা এবং বিভিন্ন পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা বাড়ায়। এর মাধ্যমে কৌশলগত দক্ষতাও উন্নত হয়।’
প্রদর্শনীর পাশাপাশি একই সময়ে ১৪তম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে জরুরি বুদ্ধিমান কমান্ড যোগাযোগ, সাইবারস্পেস ম্যাপিং এবং তড়িৎচৌম্বকীয় পরিবেশ ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে ১৭টি উচ্চপর্যায়ের বিষয়ভিত্তিক ফোরাম আয়োজন করা হয়েছে।
সিএমজি