জুলাই ২৩: ম্যানিলায় চীন-আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকালের (বৃহস্পতিবার) বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং চীন-আসিয়ান সম্পর্কের সমন্বয়কারী দেশ মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান। আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আসিয়ানের মহাসচিব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ওয়াং ই বলেন, এ বছর চীন-আসিয়ান ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার পঞ্চম বার্ষিকী। উভয় পক্ষের নেতাদের যৌথ কৌশলগত নির্দেশনায় চীন-আসিয়ান সহযোগিতা উন্নত ও স্থিতিশীল হয়েছে। এর ফলে উভয় পক্ষের ২০০ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন এবং চীন-আসিয়ানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠনের ভিত্তি আরও দৃঢ় হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চীন-আসিয়ান সম্পর্কের উন্নয়ন প্রমাণ করে যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসই সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তি, আন্তরিকতাই সহাবস্থানের পথ, উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সহযোগিতাই সাফল্যের ভিত্তি এবং উন্মুক্ততা ও অন্তর্ভুক্তিই সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
ওয়াং ই উল্লেখ করেন, চীন সম্প্রতি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। বিগত ১০৫ বছরে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ১৪০ কোটিরও বেশি চীনা জনগণকে নিরলস সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ ও নেতৃত্ব দিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করেছে এবং বিশ্বের উন্নয়ন প্রেক্ষাপটকে গভীরভাবে পরিবর্তন করেছে।
তিনি বলেন, একের পর এক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং মানবজাতির অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠনের মূল ধারণা এবং চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রস্তাব করেছেন। এর লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের ধারার সঙ্গে সঙ্গতি রাখা, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও শাসনের ঘাটতি মোকাবিলা করা এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা।
শান্তি, উন্নয়ন, সহযোগিতা ও পারস্পরিক লাভের নীতি সমুন্নত রাখতে, ঘনিষ্ঠতর সহযোগিতার মাধ্যমে এই অঞ্চলের সব দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করা থেকে শুরু করে উদীয়মান চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় আরও দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে ইচ্ছুক চীন। পাশাপাশি ‘পঞ্চ-গৃহ’ সম্প্রদায় গঠনে ক্রমাগত অগ্রগতি সাধনে আসিয়ানের সঙ্গে চীন কাজ করতেও ইচ্ছুক বলেও জানান ওয়াং ই।
তার মতে, এর মাধ্যমেই এশিয়ার উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের চালিকাশক্তি, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার মডেল এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের ঐক্য ও আত্মনির্ভরশীলতার মানদণ্ড হিসেবে চীন-আসিয়ান সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে ওয়াং ই চারটি পরামর্শ দেন। প্রথমত, এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নশীল পরিবেশ বজায় রাখতে হবে; দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক উন্নয়নের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে হবে; তৃতীয়ত, উদ্ভাবনী ও সবুজ উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে হবে এবং চতুর্থত, জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি মেনে চলতে হবে।
দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে চীনের নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করে ওয়াং ই বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর আমাদের অভিন্ন আবাস। চীন ও আসিয়ান দেশগুলোর দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যু যথাযথভাবে মোকাবিলা করে যাওয়ার মতো প্রজ্ঞা ও সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তার মতে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর উচিত ‘দক্ষিণ চীন সাগরে পক্ষগুলোর আচরণ সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র’ (ডিওসি) কঠোরভাবে মেনে চলা এবং বহিরাগত শক্তির উসকানি প্রতিরোধ করা। সেইসঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কোনো একক দেশের কার্যকলাপের বিরোধিতা করা এবং এ অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখার উদ্যোগ দৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে রাখা উচিত বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ওয়াং ই বলেন, ‘এখন দক্ষিণ চীন সাগরে একটি আচরণবিধি (সিওসি) প্রণয়নের জন্য আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে, হস্তক্ষেপ দূর করতে হবে এবং লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হতে হবে।’
বিগত পাঁচ বছরে আসিয়ান-চীন ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্বের ফলপ্রসূ সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বৈঠকের সকল পক্ষ। সবাই এ ব্যাপারে একমত যে, চীন আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী। পাশাপাশি সংলাপ ও বাণিজ্যের বৃহত্তম অংশীদারও। বৈঠকে মানবজাতির অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠনসংক্রান্ত চীনা ধারণা এবং এর চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগকে আসিয়ান পক্ষগুলো সমর্থন করে বলে জানান সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
সূত্র: সিএমজি