শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব নুর্লান ইয়েরমেকবায়েভের একান্ত সাক্ষাৎকার

২০২৬ সালের শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাক্কালে সংস্থার মহাসচিব নুর্লান ইয়েরমেকবায়েভ সিএমজিকে এক সাক্ষাৎকার দেন।

সাক্ষাত্কারে এসসিও’র ২৫ বছরের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকিয়ে ইয়েরমেকবায়েভ বলেন, ‘বিগত ২৫ বছরে, এসসিও সফলভাবে পারস্পরিক আস্থার একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি অনন্য বহুস্তরীয় সহযোগিতা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে।’

ক্রমাগত ক্রমবর্ধমান এসসিও পরিবার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, অনেক দেশ এসসিও’র প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। এসসিও দেশের আকার বা অর্থনৈতিক শক্তির ভিত্তিতে কোনো বিভাজন রেখা টানে না; সব দেশ সমান মর্যাদা ভোগ করে। এটাই এসসিও-র আসল মূল্য এবং আকর্ষণ।’

বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মহামান্য প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রস্তাবিত বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, সুদূরপ্রসারী প্রভাবসম্পন্ন এবং সময়োপযোগী।’

শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা’র (এসসিও) বিশকেক শীর্ষ সম্মেলন ৩১শে আগস্ট থেকে ১লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের থিম হলো ‘এসসিও-র ২৫তম বার্ষিকী: স্থায়ী শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে যাত্রা।’ এই থিম প্রসঙ্গে ইয়েরমেকবায়েভ বলেন, এ বছর শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। পঁচিশ বছর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা এই ২৫ বছরে এসসিও-র উন্নয়ন পর্যালোচনা করি, এর অর্জনগুলো মূল্যায়ন করি এবং এর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরি। পঁচিশ বছর প্রকৃতপক্ষে আমাদের জন্য সহযোগিতার ফলাফল সারসংক্ষেপ ও মূল্যায়ন করার একটি সময়।

শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) বিগত ২৫ বছরে ২৭টি দেশ এবং বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই ২৫ বছরে এসসিও’র সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো কী কী? একটি রূপকল্প থেকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ফলপ্রসূ সহযোগিতার বাস্তবায়ন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

এসব প্রশ্নের উত্তরে ইয়েরমেকবায়েভ বলেন, বিগত ২৫ বছরে, শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) আলোচনার মাধ্যমে সফলভাবে পারস্পরিক আস্থার একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে এবং সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি সংলাপ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। আমরা মনে করি যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রাধিকারের পাশাপাশি তাদের স্বতন্ত্র ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সভ্যতার ঐতিহ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও অবস্থানে থাকা এসব দেশ তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ের মধ্যে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোতে সহযোগিতা করতে এবং ঐকমত্যে পৌঁছাতে শিখেছে। আমরা এটিকে বিগত ২৫ বছরের সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো, এসসিও বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি অনন্য বহুস্তরীয় সহযোগিতা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমানে, আমাদের ২৯টি বিশেষায়িত সহযোগিতা ব্যবস্থা রয়েছে, যথা মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় প্রধানদের জন্য নিয়মিত বৈঠক ব্যবস্থা, যা সম্মিলিতভাবে ‘মন্ত্রণালয় প্রধানদের বৈঠক’ নামে পরিচিত। এই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর প্রধান, বিশেষজ্ঞ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বার্ষিক বা দ্বিবার্ষিকভাবে মিলিত হন। এই বিশেষায়িত বৈঠক এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ের বৈঠকগুলোতেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। পরিশেষে, সংস্থার কাজের কার্যকারিতা এই ব্যবস্থাগুলোর উপরই নির্ভর করে।

সাক্ষাৎকারে মহাসচিব ইয়েরমেকবায়েভ বারবার ‘শাংহাই চেতনার’ কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, যদিও ‘শাংহাই চেতনা’ মাত্র ২০টি অক্ষর নিয়ে গঠিত, এর মধ্যে নিহিত সমতা, সংলাপ এবং শ্রদ্ধার ধারণাগুলোর চিরন্তন তাৎপর্য রয়েছে এবং এগুলো বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগগুলোর প্রদর্শিত জনকেন্দ্রিক পদ্ধতির সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি এসসিও’র কাঠামোর মধ্যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশাও প্রকাশ করেন।

সূত্র: সিএমজি