আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের শিশুদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। রোববার খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পারস্পরিক সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়ের মধ্য দিয়ে শিশুরা গড়ে তোলে বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের নতুন সেতুবন্ধন।
চীনের সুং ছিং লিং ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য ছিল নানা ধরনের অংশগ্রহণমূলক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম। এসব আয়োজনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী চীনা সংস্কৃতিকে শিশুদের কাছে জীবন্ত ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল টাই-ডাই কর্মশালা। চীনের পাই জাতিগোষ্ঠীর এই ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের মাধ্যমে শিশুরা কাপড় নির্বাচন, রাবার ব্যান্ড দিয়ে নকশা তৈরি এবং রঙিন রঞ্জকে কাপড় ডুবিয়ে রঙ করার কৌশল শিখে। তাদের তৈরি হস্তশিল্প শুধু উৎসবের স্মারক হিসেবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবেও স্থান পায়।
অংশগ্রহণকারী শিশু পাই ইথোংবলে বলেন, “তারা আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে রাবার ব্যান্ড দিয়ে রেশমের স্কার্ফ বাঁধতে হয়। আমরা আমাদের বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী চীনা সংস্কৃতি ভাগ করে নিতে পারছি এবং তাদের এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারছি।”
অন্যদিকে, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে আসা এক শিশু উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে, “এ ধরনের কিছু আমি এই প্রথম করলাম। এটি দারুণ এবং সত্যিই খুব মজার।”
উন্মুক্ত পরিবেশে আয়োজিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ছিল আকর্ষণীয় বিজ্ঞান প্রদর্শনী। বিভিন্ন চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শিশুদের মধ্যে কৌতূহল ও আনন্দের সঞ্চার করে।
এই বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি শিশুদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। অনেক বিদেশি শিশু তাদের চীনা বন্ধুদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরও বেশি চীনা সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা নেওয়ার আমন্ত্রণও পেয়েছে।
চীনা কিশোরী ছেন ছিইউয়ে বলেন, “আমি খুবই আনন্দিত। বিভিন্ন দেশের অনেক শিশুর সঙ্গে পরিচিত হয়েছি এবং আমরা উপহার বিনিময় করেছি। আমি তাদের স্বর্গ মন্দিরের ফ্রিজ ম্যাগনেট ও কিছু খাবার উপহার দিয়েছি। আমি আশা করি, তারা চীনা সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও বেশি জানতে পারবে।”
সূত্র: সিএমজি