সেপ্টেম্বর ৬: আজ (রোববার) বিকেলে, সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জিরং কাউন্টি ‘২৬ আগস্ট’ ভূমিধস বিপর্যয়-পরবর্তী জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কমান্ড সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জিরং কাউন্টি ‘২৬ আগস্ট’ ভূমিধস-পরবর্তী বিপর্যয়ের জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কমান্ড সদর দপ্তরের স্থায়ী ডেপুটি কমান্ডার রেন ওয়েই, দুর্যোগের পর থেকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, উদ্ধার ও ত্রাণকাজ প্রধানত চারটি দিক থেকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে:
প্রথমত, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জনগণের জীবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ২৫০০-এরও বেশি উদ্ধারকর্মী, ৫০০-এরও বেশি উদ্ধারযান, ৯০০০-এরও বেশি সেট উদ্ধার-সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে; ১০০০-এরও বেশি ড্রোন ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে; এবং ৫.৪৩ টন ত্রাণসামগ্রী ও সরঞ্জাম আকাশপথে দুর্গত অঞ্চলে ফেলা হয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় যাতায়াতব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পর ৭টি উদ্ধার দল মোতায়েন করা হয়েছে; ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সফলভাবে ২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য পরবর্তী সহায়তার কাজ সুপরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে; ধৈর্য ও যত্নের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের অভ্যর্থনা ও সান্ত্বনা দেওয়ার কাজ করা হচ্ছে; তাদের উদ্বেগের বিষয়ে সময়মতো সাড়া দেওয়া হচ্ছে এবং মানসিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশীয় নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মোট ৬৭৫টি ফোনকল রিসিভ করা হয়েছে; এবং ৬৪০ জনের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগ-কবলিত অঞ্চলের ৪৯৯ জন মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং চিকিত্সা, শিক্ষা, মৌলিক জীবনযাত্রা ও মানসিক সান্ত্বনাসহ বিভিন্ন সেবা জোরদার করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, গৌণ দুর্যোগ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হচ্ছে। দেশীয় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ দল ও কারিগরি জনবলের ১০০-এরও বেশি সদস্য মোতায়েন করে, সম্ভাব্য পরবর্তী ভূমিধস মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চতুর্থত, সক্রিয়ভাবে বৈদেশিক বিষয়ক কাজ সুসম্পন্ন করা। বারবার যাচাইয়ের পর জানা গেছে, এই দুর্যোগে বিদেশি নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ২৬১ জন, যা ২৩টি দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির চীনে অবস্থিত দূতাবাসগুলোকে সময়মতো প্রাসঙ্গিক তথ্য জানানো হয়েছে ও হচ্ছে। বিদেশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ২৪ ঘণ্টার বিশেষ হটলাইন চালু করা হয়েছে; এ পর্যন্ত মোট ৫০৯টি কল গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের সময়মতো পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। চীন-নেপাল দুর্যোগ প্রতিরোধ তথ্য বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে, প্রতিদিন নেপালকে আবহাওয়া, জলসম্পদ, হিমবাহ হ্রদ ও হিমবাহ সম্পর্কিত তথ্য জানানো হচ্ছে। নেপালি পক্ষের অনুরোধে চীন সরকার নেপালে সুড়ঙ্গ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে এবং জরুরি ত্রাণ সামগ্রী সহায়তা দিয়েছে। সূত্র: সিএমজি