সিজিটিএন জরিপ: ‘এপিক ফিউরি’ কেন হরমুজ প্রণালী দখলে নিতে পারল না?

জুন ১৮: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত প্রশমনের প্রাথমিক আশা দেখা দিয়েছে। তবে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত লাভ এনে দিতে পারেনি। চায়না মিডিয়া গ্রুপের সিজিটিএন পরিচালিত বৈশ্বিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৯০.৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, মার্কিন সরকার তার প্রত্যাশিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে; দেশটির কৌশলগত প্রভাব ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার বাস্তবতাই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত ব্যয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বজায় রাখতে এবং সামরিক ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আঞ্চলিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের চেষ্টা করে। কিন্তু স্বল্প সময়ে ইরানে সরকার পরিবর্তনের মৌলিক লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ার পর, সংঘাত দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত হওয়ায়, যুক্তরাষ্ট্র নিজের ইচ্ছামতো যুদ্ধ শেষ করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এ বিষয়ে ৮৯.১ শতাংশ উত্তরদাতা একমত। এ ছাড়া, ৯৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল এবং ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক নীতিগত পদক্ষেপই, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আকস্মিকভাবে উত্তপ্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। ৯৩.৪ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব হ্রাসের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

আসলে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রকে তার আধিপত্যবাদী নীতির জন্য বড় মূল্য দিতে বাধ্য করেছে। সংঘাত শুরুর পর এক মাসের মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের গড় দাম ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং মার্চ মাসে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির রেকর্ড করে। ৯১.৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

একই সময়ে, দীর্ঘমেয়াদী সামরিক ব্যয় ও সংঘাতের চাপ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে মিত্রদের আস্থাকেও দুর্বল করেছে। ৮৬.২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক মিত্রজোটের ভঙ্গুরতা এবং তার প্রভাব হ্রাসের বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। ৯৩.২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, ‘আধিপত্যবাদী যুক্তি’ অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে এবং বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

এই জরিপটি সিজিটিএনের ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি ও রুশ ভাষার প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৯৮৪৯ জন নেটিজেন এতে অংশগ্রহণ করেন এবং নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন।

সিএমজি

CGTN民调丨“史诗怒火”为何拿不下霍尔木兹?

随着美国与伊朗达成谅解备忘录,持续了三个多月的美以伊冲突初见缓和曙光,而这场围绕霍尔木兹海峡的旷日持久的战和博弈,并未给美国带来预想中的收益。中央广播电视总台CGTN面向全球网友发布的民调显示,90.8%的受访者认为美国政府并未实现其预期的战略目标,反而进一步暴露出其在全球战略影响力持续衰减的现实困境。

冲突伊始,美国便试图以有限投入维持地区主导地位,以军事威慑重塑地区秩序。然而,在短期内颠覆伊朗政权的根本目标化为泡影后,在冲突延宕日久、外溢范围不断扩大的情况下,美国便失去了结束战争的主导权,对此89.1%的受访者表示认同。此外,93%的受访者指出,美国在巴以问题和伊朗问题上的一系列颠覆性政策,是中东局势骤然升级的重要原因;93.4%的受访者认为此次冲突进一步加速美国在中东地区影响力的下降。

近年来,美国在全球战略收缩态势明显,试图以有限成本维持全球主导地位。对此,92.5%的受访者认为,快速有限的军事干涉和经济施压手段,已经成为美国试图低成本维持其霸权的主要做法。然而,随着美以伊冲突的发展,美国试图通过支持盟友和有限军事介入来维护中东霸权的计划彻底破产,92.3%的受访者对此表示认同。89%的受访者认为,美国低成本维持霸权的本质是将其代价转移至盟友和目标国,同时保留战略主导权,这损害了盟友的利益。另有93%的受访者指出,一旦美国在中东陷入战争泥潭,美国中东战略将彻底破产。

事实上,这场冲突让美国为其霸权逻辑支付了沉重成本。冲突爆发后,美国汽油均价一个月内上涨35%,3月美国消费者价格指数创近四年最大涨幅。91.7%的受访者认为,冲突已经对美国经济产生巨大冲击。与此同时,持续的军事投入也造成盟友对美国战略承诺的信心缺失,多个盟友拒绝在冲突中提供军事支持就是最好证明。86.2%的受访者认为,这暴露了美国全球盟友体系的脆弱,放大了美国影响力下降的现实;93.2%的受访者认为,美国以“霸权逻辑”贸然发动军事干预,严重削弱国际规则体系与全球战略稳定。

这项调查在CGTN英语、西班牙语、法语、阿拉伯语和俄语五语种平台发布,24小时内有9849名网友参与投票并发表观点。