জুন ১০: গত ৬ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত, উত্তর কোরিয়া সফর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। বলা বাহুল্য, এ সফর সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। সফরকালে সি চিন পিং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম জং-উনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন। এ সময় তাঁরা দু’দেশের সম্পর্কের আরও উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সি বলেন, “আমি সাধারণ সম্পাদক কিম জং-উনের সঙ্গে নতুন যুগের চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছি এবং আঞ্চলিক ও বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা নিয়ে গভীরভাবে মতবিনিময় করেছি। চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর ও ব্যাপক হয়েছে এবং ভবিষ্যত উন্নয়নের দিকনির্দেশনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।”
সি চিন পিং বলেন, “আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীনের পার্টি ও সরকারের চীন-উত্তর কোরিয়া ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়ার দৃঢ় অবস্থান কখনও পরিবর্তিত হবে না; কিম জং-উন কমরেডের নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়ার সমাজতান্ত্রিক কাজকে চীনের দৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাওয়া কখনও পরিবর্তিত হবে না; এবং চীন-উত্তর কোরিয়া যৌথ স্বার্থ ও সুস্থ কৌশলগত পরিবেশ রক্ষার দৃঢ় সংকল্পও কখনও পরিবর্তিত হবে না।”
সাত বছর আগে উত্তর কোরিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরের সময়, প্রেসিডেন্ট সি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব দীর্ঘকাল ধরে টিকে থাকার পেছনের কারণগুলো হচ্ছে: এ বন্ধুত্ব উভয় দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে, উভয় দেশের মূল স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যুগের উন্নয়নের ধারার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, এবং উভয় পক্ষের দীর্ঘমেয়াদী সামগ্রিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে গৃহীত কৌশলগত পছন্দ।
উত্তর কোরিয়ায় এই সফরের সময় প্রকাশিত এক নিবন্ধে সি বলেন, “চীন ও উত্তর কোরিয়া সমাজতন্ত্রের পথে একে অপরের সঙ্গী।” ‘পথ ও লক্ষ্যে অটল থাকার’ জন্য কমরেডদের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থন প্রয়োজন।
এ বছর চীনা কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী এবং চীনের ‘পঞ্চম পাঁচসালা পরিকল্পনার’ প্রথম বছর। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত উত্তর কোরিয়ার লেবার পার্টির নবম কংগ্রেস উত্তর কোরিয়ার আগামী ৫ বছরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে। নতুন ঐতিহাসিক সূচনায়, চীন ও উত্তর কোরিয়া প্রাথমিক আদর্শ ভুলে না-গিয়ে, হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়ে গেলে, কেবল দুই পার্টি ও দুই দেশের সম্পর্কের সুন্দর ভবিষ্যত সৃষ্টি হবে না, বরং সমাজতন্ত্রের উল্লেখযোগ্য সুবিধা ও উজ্জ্বল সম্ভাবনাও আরও স্পষ্ট হবে।
আঞ্চলিক দীর্ঘমেয়াদী শান্তি এবং বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করা চীন ও উত্তর কোরিয়ার পার্টি, রাষ্ট্র ও উভয় দেশের জনগণের যৌথ লক্ষ্য। বিশ্বের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঐতিহাসিক ধারা উপলব্ধি করে, উচ্চ স্তরের কৌশলগত সহযোগিতা চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের যুগোপযোগী মর্মবস্তু হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
উত্তর কোরিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরের সময় প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সেদেশের শীর্ষনেতা কিম জং-উনের সঙ্গে এক বৈঠকে উল্লেখ করেন, “এশিয়া চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো আঞ্চলিক দেশগুলির বসবাস ও বিকাশের স্থান। চীন ও উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করা উচিত; নিজ নিজ সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা উচিত; এবং যৌথভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়ন রক্ষা করা উচিত।”
মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনের ধারণা এবং চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগকে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে সক্রিয় সমর্থন ও সাড়া দেওয়া থেকে শুরু করে, জাতিসংঘের মতো বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে উভয় পক্ষের যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রাখা পর্যন্ত, চীন ও উত্তর কোরিয়া যৌথভাবে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষা করছে, যা আঞ্চলিক দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নে স্থিতিশীলতা সঞ্চার করবে।
সি চিন পিংয়ের এবারের উত্তর কোরিয়া সফরের সময় কিম জং-উন বলেন, “আমরা চিরকালের মতো চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ককে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম কৌশলগত কর্মসূচি হিসেবে গড়ে তোলা অব্যাহত রাখব। উত্তর কোরিয়া এই সফরের সময় অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়, দুই দেশের সহযোগিতায় নতুন ও বাস্তব ফলাফল এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়, এবং চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চায়।”
নতুন ঐতিহাসিক সূচনায় দাঁড়িয়ে, সি চিন পিং চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের উন্নয়নে ৪-দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন: উচ্চপর্যায়ের বিনিময়কে নেতৃত্ব হিসেবে ধরে, রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তি মজবুত করা; জনগণের কল্যাণকে লক্ষ্য হিসেবে ধরে, বাস্তবসম্মত সহযোগিতার স্তর উন্নত করা; বন্ধুত্বের উত্তরাধিকারকে শক্তি হিসেবে ধরে, জনগণের মধ্যে যোগাযোগের বন্ধন দৃঢ় করা; ন্যায়বিচারকে মূল ধারণা হিসেবে ধরে, কৌশলগত সহযোগিতার মর্মবস্তু সমৃদ্ধ করা।
২০১৮ সালের মার্চ মাসে, সি-কিম ঐতিহাসিক প্রথম বৈঠক হয়েছিল এবং নতুন যুগের চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের উন্নয়নে চার-দফা নীতির ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছিল। ‘চার দিকের নীতি সম্পর্কে ঐকমত্য’ থেকে ‘তিনটি কখনও পরিবর্তিত হবে না’ এবং ‘৪টি মতামত’ পর্যন্ত, সাধারণ সম্পাদক সি সর্বদা বিশ্ব ও ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের জন্য নতুন ভবিষ্যত্ উন্মোচনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছেন।
দুই পার্টি ও দুই দেশের সর্বোচ্চ নেতাদের কৌশলগত নেতৃত্বে, হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে, চীন ও উত্তর কোরিয়া ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব ক্রমাগত যুগোপযোগী করবে, এটাই প্রত্যাশা।
সিএমজি