জুন ১৬, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: একসময় বার্ধক্য মানেই ছিল নিঃসঙ্গতা আর নির্ভরতার গল্প। তবে চীনের শাংহাইয়ে সেই ধারণা বদলে দিচ্ছে বিশেষ প্রবীণবান্ধব কমিউনিটি। যেখানে চিকিৎসা, খাবার, শরীরচর্চা আর আড্ডায় জীবনের শেষ সময়টাও কাটছে স্বস্তি আর আনন্দে।
সূর্য ওঠার আগেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন ৭২ বছর বয়সী ইয়ইন ই। হাতে ছোট ব্যাগ, মুখে হাসি। সকালের নাস্তা কমিউনিটির ক্যান্টিনে, তারপর বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে লাইব্রেরি, বিকেলে একটু ব্যায়াম। দিন শেষে প্রয়োজনে চিকিৎসকও হাতের নাগালে। জীবনের শেষবেলায় এখন তার কাছে জীবন মানে সাজানো এক বাগান।
চীনের শাংহাইয়ের পুতোং নিউ এরিয়ার সাংকাং কমিউনিটি বয়স্কদের জন্য এমন এক পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শুধু দিন পার করা নয়, মর্যাদা আর আনন্দ নিয়েই কাটছে জীবন। বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাংহাইয়ে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ প্রবীণ
আছে, যা শহরের জনসংখ্যার ৩৭ শতাংশেরও বেশি।
প্রবীণ নারী ইন ই বলেন, ‘তিনটি ভবন নিয়ে গড়ে ওঠা এই বিশেষ কমপ্লেক্স আমাদের জীবনে এনেছে বড় পরিবর্তন। একটি ভবনে সকালের নাস্তা থেকে রাতের খাবারের ব্যবস্থা, অন্যটিতে রয়েছে শরীরচর্চা কেন্দ্র ও লাইব্রেরি। আর তৃতীয়টিতে আছে কমিউনিটি হাসপাতাল। এখন শুধু বেঁচে থাকার জন্য বেঁচে নেই, ভালোভাবেই বাঁচছি।’
৭৭ বছর বয়সী কু হুইছুয়ানের কাছেও এই সেবা আশীর্বাদ। একসময় তার রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়াটা ছিল আতঙ্কের। এখন কমিউনিটির চিকিৎসায় তিনি সুস্থ। জীবনের শেষ সময়ে এসে ৮৬ বছর বয়সী চিয়াং মানইংয়ের জন্য এই কমিউনিটি যেন পরিবারের বিকল্প।
শাংকাং কমিউনিটি অফিসের উপ-পরিচালক শিয়ে নি বলেন, ‘এখানকার অধিকাংশ সেবা প্রবীণদের জন্য বিনামূল্যে। সরকারি সহায়তা, কমিউনিটি ফান্ড ও স্থানীয় তহবিলের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।’
চীনে ২০২৪ সালে ষাটোর্ধ্ব বেশি বয়সী মানুষের ৩১ কোটিতে, যার মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ থাকেন একা। প্রবীণদের জন্য মানসম্মত সেবা এখন সামাজিক দায়িত্ব নয়, হয়ে উঠেছে প্রয়োজন।
সূত্র: সিএমজি