শিক্ষাখাতে চীনের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর চায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষা, গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে আগ্রহী বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন গতি ও পারস্পরিক আস্থাকে কাজে লাগিয়ে উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের এখনই উপযুক্ত সময়।’

রোববার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: আস্থা বৃদ্ধি ও নতুন দিকনির্দেশনা শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। অধ্যাপক আবদুল হান্নান বলেন, ‘গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে শক্ত জায়গা পৌঁছেছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর দু’দেশের পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।’

শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে দু’দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষক বিনিময়ের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য জানান, ‘নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে চীনের সহযোগিতায় ‘এআই ইন হেলথ’ল্যাব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ঘোষিত দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশে আধুনিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে। এর মাধ্যমে দেশের তরুণরা আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন করে চীনা ও বৈশ্বিক শিল্পখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অধ্যাপক হান্নান বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগ আসুক। উন্নত প্রযুক্তি ও শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

এ ছাড়া চীন-বাংলাদেশ পরিবহন ও ট্রান্সশিপমেন্ট করিডরের সম্ভাবনা নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় একটি গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে বলেও জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। করিডরটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্য, আঞ্চলিক সংযোগ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।

সূত্র: সিএমজি বাংলা