বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, তরুণ কর্মশক্তি এবং অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের সংস্কৃতি বিষয়ক কাউন্সেলর লি শাও ফেং। তিনি বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের সঙ্গে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সংযোগে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে প্রস্তুত। এ ছাড়া আরও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষা, ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো হবে।
রোববার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: আস্থা বৃদ্ধি ও নতুন দিকনির্দেশনা শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। সফরের সময় প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে ‘
তিনি আরও বলেন, ‘এই সফরের ফলে চীন-বাংলাদেশের রাজনৈতিক আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে যেমন তেমনি বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বেড়েছে।
বাংলাদেশের তরুণদের প্রসঙ্গ টেনে লি শাওফেং বলেন, ‘সাম্প্রতিক সফরে চীনা ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর ফলে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে পড়াশোনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে।’
তিনি জানান, ‘চীনা সরকারের বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চীনা ভাষা শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি শিক্ষার সহযোগিতাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।’
লি শাও ফেং বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা এখন আর শুধু বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বিনিয়োগ, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি আসবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব উন্নয়ন পথের প্রতি সম্মান জানায় চীন। বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা কোন রাজনৈতিক শর্ত বা ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয় বরং পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং উভয়ের লাভের নীতিতে পরিচালিত হয়।’ সূত্র: সিএমজি বাংলা