ফয়সল আবদুল্লাহ
হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এমন কৃত্রিম ‘জৈব পেসমেকার’ তৈরি করেছেন চীনা গবেষকরা। পরীক্ষাগারে তৈরি নতুন প্রযুক্তিটি হৃদরোগের গবেষণা এবং নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সেল স্টেম সেল’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি গবেষকেরা একটি পেট্রি ডিশে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক পেসমেকার অংশ সাইনোএট্রিয়াল নোডের ত্রিমাত্রিক অর্গানয়েড (জৈব সংস্করণ) তৈরি করেছেন, যা স্নায়ুকোষের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে হৃদস্পন্দন ঘটাতে পারে। মানবদেহে ডান অলিন্দে অবস্থিত এই সাইনোএট্রিয়াল নোডই হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখে এবং বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন অংশকে সমন্বিতভাবে সংকুচিত করে শরীরজুড়ে রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করে।
এটি তুলনামূলক ক্ষুদ্রাকৃতির এবং কিছুটা গভীরের দিকে থাকায় মানবদেহ থেকে এর নমুনা সংগ্রহ করা কঠিন। আবার ইঁদুরসহ অন্য প্রাণীর মডেল মানব হৃদস্পন্দনের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে পুরোপুরি অনুকরণ করতে পারে না। তাই পরীক্ষাগারে মানুষের হৃদযন্ত্রের মতো বাস্তবসম্মত পেসমেকার তৈরি করাটা এতদিন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
চীনা বিজ্ঞান একাডেমির মলিকুলার সেল সায়েন্স সেন্টার এবং ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ের চোংশান হাসপাতালের গবেষকেরা ভ্রূণীয় বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত অনুকরণ করে স্টেম সেল থেকে এই অর্গানয়েড তৈরি করেন। এগুলো নিজে থেকেই স্থিতিশীল হৃদস্পন্দন তৈরি করতে সক্ষম।
গবেষণায় দেখা গেছে, সাইনোএট্রিয়াল নোড অর্গানয়েডকে অলিন্দের মতো টিস্যুর সঙ্গে যুক্ত করলে বৈদ্যুতিক সংকেত সঞ্চালিত হয়ে স্বাভাবিক হৃদযন্ত্রের মতো ‘পেসিং–কন্ডাকশন’ তৈরি হয়।
সূত্র: সিএমজি